× UCB Sticker Card
শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম

একই মঞ্চে যৌতুকবিহীন ৭ জুটির বিয়ে, নতুন দৃষ্টান্ত গড়ল আলোকিত লালমনিরহাট

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

সামাজিক অপরাধ প্রবণতা রোধ এবং যৌতুকের মতো কুপ্রথার বিরুদ্ধে তীব্র গণসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে লালমনিরহাটে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সৃষ্টি হয়েছে। 

সামাজিক অপরাধমুক্ত ও কুসংস্কারহীন সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ সামাজিক আন্দোলন। এই মহতী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শুক্রবার রাতে লালমনিরহাটে সম্পূর্ণ যৌতুকবিহীন এক জমকালো গণবিয়ের আয়োজন করা হয়, যা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে নবদম্পতিদের শুভ পরিণয় সম্পন্ন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বর্ণিল আলোকসজ্জা আর সাজসজ্জায় পুরো জেলা পরিষদ মিলনায়তন ছিল উৎসবমুখর। তবে সব চাকচিক্য ছাপিয়ে সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মূল সভামঞ্চটি। এই জমকালো অনুষ্ঠানে মঞ্চ আলোকিত করে বসেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৭ জন বর ও ৭ জন কনে। যেখানে ত্রাণ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে একই সঙ্গে সাত জোড়া তরুণ-তরুণীর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। একই রঙের শেরওয়ানি পরা বর আর লাল শাড়িতে কনেদের উপস্থিতি পুরো মিলনায়তনে এক নান্দনিক আবহ তৈরি করে। সম্পূর্ণ যৌতুকহীন এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা এক পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নতুন জীবনের সূচনা করলেন। ​

এই আয়োজনের মাধ্যমে ৬টি মুসলিম এবং ১টি হিন্দু পরিবার কোনো প্রকার দেনা-পাওনা বা যৌতুকের দাবি ছাড়াই নতুন জীবনে পা রাখল। গত ঈদুল আজহার সময় ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার লক্ষ্যে যে যৌতুকবিহীন বিয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, ৩ জুলাই রাতে তারই সফল বাস্তবায়ন ঘটল।

যৌতুক প্রথার অভিশাপমুক্ত হয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নবদম্পতিরা। তারা যুবসমাজের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, বিয়ে হওয়া উচিত যৌতুকমুক্ত এবং অহংকারহীন। বর-কনেদের অভিভাবকরাও এই উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং একে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হক। বক্তারা বলেন, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর এই উদ্যোগ কেবল জেলার জন্য নয়, বরং সারা দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও স্থানীয় সুধীজন এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে এবং তরুণ সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে ‘আলোড়িত লালমনিরহাট’-এর এই প্রয়াস সারা দেশের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অডিটোরিয়ামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। নবদম্পতিদের শুভকামনা জানাতে ভিড় জমান হাজারো মানুষ।

উল্লেখ্য, আসাদুল হাবিব দুলু এর আগে যখন খাদ্য উপ-মন্ত্রী ছিলেন, তখনই জেলাজুড়ে জুয়া, মাদক, বাল্যবিয়ে ও যৌতুক প্রতিরোধে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামক এই আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!