বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা তিন দিন ধরে সীতাকুণ্ডে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে দুর্বল হয়ে পড়া পাহাড়ের ঢালঘেঁষে বসবাসরত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টি ও পাহাড় ধসের সতর্কতা জারি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে গেছে। অনেক স্থানে পাহাড়ের গায়ে ফাটল দেখা দিয়েছে, কোথাও কোথাও ছোট ছোট মাটি খসে পড়ছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন পাহাড়ি এলাকার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতের মতো এবারও প্রশাসনের মাইকিং ও আশ্রয়কেন্দ্র কার্যক্রম তেমন দৃশ্যমান নয়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত অনেক পরিবার এখনো ঘর ছাড়েনি। তাদের দাবি, আগেভাগে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, জঙ্গল সলিমপুরের অন্তত ১০০টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসএম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মাইকিং করা হলেও অনেক বাসিন্দা ঘর ছাড়তে অনাগ্রহী। তাদের বোঝানোর চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, পাহাড় ধসের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে যেতে হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পাহাড় কাটা ও পাহাড়ি ছড়া ভরাটের কারণেই পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। তারা বলছেন, এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে প্রতি বর্ষায় একই ধরনের আতঙ্কে থাকতে হবে পাহাড়ি এলাকার মানুষকে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন