বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো মাছ ধরার ট্রলার বা নৌযান সমুদ্রে না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে কোস্ট গার্ডের পাথরঘাটা স্টেশন কমান্ডার লে. মো. সারতাজ স্বাক্ষরিত এক সতর্কবার্তায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই সতর্কতা কার্যকর থাকবে।
সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতা আনুমানিক ১২ থেকে ১৮ ফুটের মধ্যে ওঠানামা করছে। সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল ও বৈরী হয়ে পড়েছে। ফলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত মাছ ধরা, বাণিজ্যিক কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশে কোনো ট্রলার বা নৌযান সমুদ্রে না পাঠানোর জন্য জেলে, ট্রলার মালিক, ঘাট কমিটি ও ট্রলার মালিক সমিতির নেতাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমুদ্রে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া এই বিরূপ আবহাওয়া আরও চার থেকে পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে গভীর সমুদ্র থেকে ফিরে আসা জেলে জাহাঙ্গীর মাঝি বলেন, গভীর সাগরে আবহাওয়া খুবই খারাপ হয়ে যাওয়ায় দ্রুত ঘাটে ফিরে এসেছি। আশপাশের অনেক ট্রলারকেও নিরাপদে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। আশা করছি, ইতোমধ্যে বেশিরভাগ ট্রলারই নিরাপদে ঘাটে পৌঁছেছে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, বৈরী আবহাওয়ার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর বরগুনার অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার নিরাপদে ঘাটে ফিরে এসেছে। যেসব ট্রলার এখনো সমুদ্রে রয়েছে, তাদের অনেকেই সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছে। আমরা সকল ট্রলার মালিক ও জেলেদের আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং কোস্ট গার্ডের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছি।

