সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ৪৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশই অচল রয়েছে। বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র একটি ক্যামেরা। ফলে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে হাসপাতাল চত্বরে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সিসিটিভি ব্যবস্থার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর পরদিন মঙ্গলবার সকালে দীর্ঘদিন অচল থাকা ক্যামেরাগুলোর মধ্যে একটি সচল করা হয়। তবে বাকি ৪৭টি ক্যামেরা এখনও অচল রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগী ও সেবাপ্রত্যাশী জানান, সন্ধ্যার পর হাসপাতাল চত্বরে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তাদের অভিযোগ, কিছু মাদকসেবী সেখানে আড্ডা দেন। পাশাপাশি উঠতি বয়সী কিছু ছেলে-মেয়েকেও আপত্তিকর আচরণ করতে দেখা যায়। কার্যকর সিসিটিভি নজরদারি না থাকায় এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এতে বিশেষ করে নারী রোগী ও স্বজনরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হাসপাতালটি প্রতিদিন শত শত মানুষের চিকিৎসাসেবার কেন্দ্র। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন দুর্বলতা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের দাবি, দ্রুত সব সিসিটিভি ক্যামেরা সচল করে হাসপাতালজুড়ে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফম ওবাইদুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেগুলো অচল হয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে একটি ক্যামেরা সচল করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ক্যামেরাগুলোও মেরামত করে চালু করা হবে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে ক্যামেরাগুলো অচল থাকার পরও কেন দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
হাসপাতালে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত সব সিসিটিভি ক্যামেরা সচল, নিয়মিত তদারকি জোরদার এবং বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবা প্রত্যাশীরা।

