তিন দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের নিচু এলাকা তলিয়ে গিয়ে অন্তত অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি,কর্ণফুলী ও শঙ্খ নদের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার বেশ কিছু গ্রামীণ সড়ক। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, মৎস্য ঘের, ভেঙে পড়েছে সড়ক। এতে কৃষকদের ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলেও দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক সড়কে হাঁটুপানি জমে রয়েছে। এতে পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ছোট যানবাহনের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ।
এদিকে আনোয়ারা উপজেলার দেয়াঙ পাহাড়ে অবস্থিত কোরিয়ান ইপিজেডের পানির ঢলে মেরিন অ্যাকাডেমি সড়ক ভেঙে গেছে। ফলে ওই সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সড়কের ভাঙা অংশে মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। ভারী বর্ষণের কারণে উপজেলার অন্তত আটটি ইউনিয়নের লোকালয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই এলাকাগুলোর বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ফলে ওই সব এলাকার নারী-পুরুষকে নিজেদের সহায়-সম্পদ রক্ষায় চেষ্টা চালাতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণে আনোয়ারা উপজেলা সদর, চাতরী, হাইলধর, বরুমচড়া, বটতলী, পরৈকোড়া, বৈরাগ, বারখাইন ইউনিয়ন ও কর্ণফুলী উপজেলার কলবাহা, চরলক্ষ্যা, চরপাথরঘাটা, বড়উঠান ইউনিয়নসহ অনেক নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এখানকার বাসিন্দাদের জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এছাড়া দেয়াঙ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বাসিন্দারা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সময়মত তাদের নিরাপদে সরিয়ে না নিলে বিপদ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, অতিবর্ষণের কারণে সোমবার রাত ১২টা থেকে উপজেলার কোথাও নেই বিদ্যুৎ। এতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
পথচারী সাইফুল বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে কাজে যেতে পারছি না। আমি দিনমজুর হিসেবে প্রতিদিন কাজ করে যা আয় করি, তা দিয়েই সংসার চালাই। কাজ না করলে পরিবার নিয়ে কী খাব? তাই আজ কাজের সন্ধানে বের হয়েছিলাম। কোনো কাজ পেলে অন্তত এক কেজি চাল কিনে ভাত খেতে পারতাম। বৃষ্টি না হলে এতক্ষণে হয়তো কর্মস্থলেই থাকতাম।
এসব বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও সাড়া না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

