× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ১১:৪১ এএম

​ব্রিজ আছে, সংযোগ সড়ক নেই : চরম দুর্ভোগে ৫ গ্রামের মানুষ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ১১:৪১ এএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী এলাকায় প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাকা সেতু এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। মূল কাঠামোর কাজ শেষ হওয়ার এক মাস পার হলেও দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতুটি এখন খালের মাঝখানে যেন এক ‘দ্বীপ’ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাধ্য হয়ে টেংরাখালীসহ পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন।

এদিকে, সেতু নির্মাণে নানা অনিয়ম এবং সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে মাটি কেটে তা বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে টেংরাখালী গ্রামের দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে সীমানার খালের ওপর এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করেছে ‘আরিফ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে সেতুর মূল কাঠামোর ঢালাই ও নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদার চলে যান। কিন্তু দুই পাশে মাটি ভরাট না করায় সেতুতে ওঠার কোনো সুযোগ নেই। ফলে টেংরাখালী, পার্শ্বেখালী, মিরগাং, কালিঞ্চী ও ঠাকুরঘেরী গ্রামের মানুষ এখনো সেই পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকোই ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও রোগীরা।

স্থানীয়দের দাবি, সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাটি তুলে বাইরে বিক্রি করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অপরিকল্পিতভাবে এই মাটি কাটার ফলে সড়কের দুই পাশে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে এখন সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় মাটিও পাওয়া যাচ্ছে না। উপরন্তু, খাদের কারণে অনেকের বসতবাড়িও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের ওঠানামার কোনো রাস্তা নেই। উল্টো ঠিকাদার মাটি কাটতে আমার বসতঘর খালের মধ্যে ভেঙে পড়েছে। পিআইও অফিসকে বিষয়টি জানিয়েও আমরা কোনো প্রতিকার পাইনি।

এ বিষয়ে রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, সেতুটির সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সত্য। আমি নিজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) বিষয়টি জানিয়েছি। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিরাজ হোসেন জানান, ঠিকাদারকে দ্রুত সংযোগ সড়ক তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ষা ও বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে, বৃষ্টি কমলেই সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।

তবে বৃষ্টি অজুহাত নয়, বরং মাটি চুরির তদন্ত ও দ্রুত সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!