চট্টগ্রামে চিকিৎসার কথা বলে আট মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রীকে নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে এনে হত্যার ঘটনায় স্বামী মো. নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজউল ইসলাম এ রায় দেন।
দণ্ডিত মো. নেজাম উদ্দিন (৪৩) চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পূর্ব জিরি গ্রামের মৃত কবির আহাম্মদের ছেলে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর জানান, হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোস্তফা মোহাম্মদ এমরান বলেন, যৌতুকের দাবিতে নেজাম উদ্দিন নিয়মিত স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিন চিকিৎসার কথা বলে তাকে নগরীর বহদ্দারহাট এলাকার আল রেজা আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ জানুয়ারি পটিয়া উপজেলার মেহের আটি গ্রামের মো. মহসিন চৌধুরীর মেয়ে শাহনাজ বেগমের সঙ্গে নেজাম উদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর এক দুর্ঘটনায় শাহনাজ মাথায় আঘাত পান। এরপর থেকে স্বামী তার প্রতি অবহেলা ও নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় শাহনাজ আট মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা ছিলেন।
২০১২ সালের ১১ জুলাই রাতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে শাহনাজকে বহদ্দারহাটের আল রেজা আবাসিক হোটেলে নিয়ে যান নেজাম উদ্দিন। দুই দিন পর, ১৩ জুলাই বিকেলে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ বাবার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অসুস্থতায় মৃত্যুর দাবি করেন তিনি।
পরে শাহনাজের বড় ভাই আজগর আলী বাদী হয়ে নেজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন