পটুয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর অতিরিক্ত চাপে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। ৪০ শয্যার এই ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১৭৬ শিশু। ফলে একই বিছানায় দুই, তিন, এমনকি চারজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। যাদের জন্য শয্যা মেলেনি, তাদের অনেকেই হাসপাতালের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। প্রতিটি শয্যার চারপাশে স্বজনদের ভিড়, কোলে অসুস্থ শিশু, কোথাও আবার স্যালাইন ঝুলছে পাশাপাশি শুয়ে থাকা একাধিক রোগীর পাশে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিনই শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
চিকিৎসকদের মতে, মৌসুমি আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং অপুষ্টিজনিত জটিলতা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিশু ওয়ার্ডে।
সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব হকতুল্লাহ গ্রামের মরিয়ম বেগম (২৩) তিন বছর ছয় মাস বয়সী মেয়ে জান্নাতুলকে শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তার কোলে রয়েছে আট মাস বয়সী আরেক কন্যাশিশু ইয়ানুর।
মরিয়ম বলেন, মেয়েটার শ্বাসকষ্ট খুব বেড়ে গিয়েছিল। ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে এনেছি। কিন্তু এখানে এত রোগী যে একটি বিছানায় তিনজন শিশুকে রাখা হয়েছে। ছোট বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
কালিকাপুর ইউনিয়নের বহালগাছিয়া এলাকা থেকে এক বছর সাত মাস বয়সী শাহিদাকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাকেও অন্য শিশুদের সঙ্গে একই শয্যায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে জৈনকাঠি ইউনিয়নের সেহাকাঠি গ্রামের শাহীন বয়াতি (২৭) ও শান্তা আক্তার (২০) তাদের দুই মাস বয়সী ছেলে জিসানকে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে এনেছেন। ওয়ার্ডের ১০ নম্বর শয্যায় আরও দুই শিশুর সঙ্গে চিকিৎসা চলছে জিসানের।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি অধিকাংশ রোগী হাসপাতাল থেকে খাবার পাচ্ছে না। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক পরিবারকে বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে, এতে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ৪০ জন রোগীর জন্য খাবারের বরাদ্দ রয়েছে। তাই ভর্তিকৃত সব রোগীকে খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. অহিদুজ্জামান শামীম বলেন, শিশু ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় প্রায় চার গুণ রোগী ভর্তি রয়েছে। একটি শয্যায় দুই থেকে তিনজন, কোথাও তারও বেশি শিশু রয়েছে। এতে শিশুরা যেমন স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারছে না, তেমনি তাদের মায়েরাও বসার জায়গা পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে রোগী ও স্বজনদের সন্তুষ্ট করা কঠিন। তারপরও চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, শয্যা ও জনবল বৃদ্ধি না হলে এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠবে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমীন লিজা বলেন, পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় শুধু জেলার নয়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অভিভাবকেরা শিশুদের নিয়ে আসেন। বর্তমানে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং অপুষ্টিজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি। অতিরিক্ত রোগীর কারণে একই শয্যায় একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন