জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের প্রেক্ষাপটে রাজশাহীতে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর হয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, জেলায় ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে কোনো সংকট নেই। বরং গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কিনে মজুদ করলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আতঙ্ক নয়, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সচেতন আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং গুজব প্রতিরোধে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, পেট্রোল পাম্প মালিক, ব্যবসায়ী নেতা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী নগরীতে ও বিভিন্ন উপজেলায় জ্বালানি তেলের সংকট পড়েছে গুজব ছড়িয়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন নিয়ে তেল ক্রয় করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় রাজশাহী জেলা প্রশাসক এই সভায় আয়োজন করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার মতো পরিস্থিতি নেই। তাই কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা কিংবা মজুদ করার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, অযৌক্তিকভাবে জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করা হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষ অযথা ভোগান্তিতে পড়বেন এবং বাজার ব্যবস্থাও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। এ কারণে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার পাশাপাশি সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসএ শাখা) অভিজিত সরকার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বোরহান উদ্দিন অন্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পেট্রোল পাম্প মালিক এবং ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা জ্বালানি তেলের বর্তমান সরবরাহব্যবস্থা, বাজার পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে মতামত দেন। একই সঙ্গে বাজারে যাতে অযথা আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে এবং গুজবের কারণে অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভা শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি আবারও আহ্বান জানানো হয়, গুজবে কান না দিয়ে যাচাই করা তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল না কিনতে। প্রশাসনের মতে, সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখা সম্ভব।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন