শেরপুর পৌরসভার শেখহাটি বাজার থেকে গাজীরখামার হয়ে নালিতাবাড়ী পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কটি দুই উপজেলার বাসিন্দাদের যাতায়াতের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া, নিম্নমানের কাজ এবং সাম্প্রতিক বর্ষার কারণে সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শেরপুর শহরের প্রবেশদ্বার শেখহাটি বাজারের উত্তরাংশ থেকে গাজীরখামার বাজার পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দ ও গর্তে ভরে গিয়ে স্থানীয়দের জন্য বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যাতায়াতকারীদের অভিযোগ, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ ও সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র কয়েক বছর আগে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হলেও তা বেশি দিন টেকেনি। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে নালিতাবাড়ী ও শেরপুর সদরের প্রায় লাখো মানুষ যাতায়াত করেন। দূরত্ব কম হওয়ায় সড়কটি জনপ্রিয় হলেও বর্তমানে এখানে দুর্ঘটনা ও দুর্ভোগ নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পথচারী ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান মিস্ত্রি জানান, শেখহাটি বাজার, চৈতনখিলা বটতলা ও গাজীরখামার বাজারসহ সড়কের বিভিন্ন অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীদের অনেক কষ্ট হয়। বাচ্চাদের স্কুলে যেতে এবং রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমরা দ্রুত সড়কটির মেরামত চাই।
ওই সড়কে চলাচলরত অটোরিকশা চালক আ. রহিম বলেন, রাস্তা খারাপ থাকায় গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। যাত্রীদেরও কষ্ট হয়। ভাড়াও তেমন পাওয়া যায় না। রাস্তাটি ঠিক হলে আমাদের খুব উপকার হতো।
এ বিষয়ে শেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, দেশে ‘রুরাল কানেক্টিভিটি ইম্প্রুভমেন্ট’ নামে একটি বড় প্রকল্প চালু হলে সড়কটি তাতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে এর আগেই সরকারি অর্থায়নে দ্রুত সংস্কারের প্রস্তাব পাঠিয়ে কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কাগজে-কলমে প্রকল্প পাস হওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার আকুল আকুতি স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষের।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন