পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের গাজনার বিল–সংলগ্ন প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত ড. জয়নুল আবেদীন নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হাটখালী ইউনিয়নের একমাত্র বালিকা বিদ্যালয় এটি। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গত এক দশক ধরে কৃষিনির্ভর দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কন্যাশিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৫৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তবে প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পার হলেও প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাশিত সরকারি উন্নয়ন সহায়তা থেকে বঞ্চিত।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে সরকারিভাবে শুধু শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ সরবরাহ করা হয়েছে। নতুন একাডেমিক ভবন, অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষা উপকরণ, আসবাবপত্র কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি বরাদ্দ এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কৃষিবিজ্ঞানী ড. জয়নুল আবেদীন বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই স্থানীয় কিছু উদ্যোগী যুবককে সঙ্গে নিয়ে ২০১৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিই। শুরু থেকেই দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও গত ১০ বছর ধরে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিদ্যালয়ের জমি প্রদান থেকে শুরু করে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যয়, এমনকি শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও আমি ও আমার পরিবার বহন করে আসছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অত্যন্ত স্বল্প বেতনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এমনকি এই বিদ্যালয় থেকে পাস করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদেরও সাধ্যমতো আর্থিক সহায়তা করা হয়।
কিন্তু বর্তমানে আমার শারীরিক অসুস্থতা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এ দায়িত্ব পালন ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নও সম্ভব হচ্ছে না। একজন শিক্ষিত মেয়ে একটি শিক্ষিত পরিবার, সমাজ ও জাতি গঠনের অন্যতম ভিত্তি। তাই বিদ্যালয়টির উন্নয়ন, আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ, এমপিওভুক্তিকরণ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর এলাকায় কন্যাশিশুদের বিদ্যালয়মুখিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ঝরে পড়ার হার কমেছে। তারা বিদ্যালয়টিকে পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত করা, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহে সরকারের জরুরি উদ্যোগ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলা এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি সরকার দ্রুত সুদৃষ্টি দেবে। প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা পেলে বিদ্যালয়টি আরও কার্যকরভাবে এলাকার কন্যাশিশুদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

