ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আসাদুজ্জামান তপন
প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের সর্বত্র এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহল, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। চলছে নানারকম জল্পনা-কল্পনা। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এলেও এখন পর্যন্ত সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং পরিমিত নেতৃত্বের কারণে বিএনপির একটি বড় অংশের নেতাকর্মী মনে করেন, দেশের পরবর্তী (২৩ তম) রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি গ্রহণযোগ্য নাম হতে পারেন।

শুধু বিএনপির ভেতরেই নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন ভদ্র, মার্জিত এবং বিতর্কমুক্ত রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেখানে প্রায়ই তীব্র বিভাজন ও সংঘাতের চিত্র দেখা যায়, সেখানে তাঁর সংযত আচরণ এবং শালীন রাজনৈতিক ভাষা অনেকের কাছে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হয়। ফলে রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক ও নিরপেক্ষ পদে তাঁর নাম আলোচনায় আসা অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ।

তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। কে হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলমান আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং জাতীয় স্বার্থে কাজ করার ভাবমূর্তি তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় একটি আলোচিত ও শক্তিশালী নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি নিজেকে একজন দায়িত্বশীল, সংযত ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জাতীয় রাজনীতির নানা সংকটময় সময়ে তার ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য এবং সমঝোতামূলক অবস্থান তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দল পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দলীয় নেতাকর্মীদের আস্থার অন্যতম কারণ। সরকারের সঙ্গে সংলাপ, নির্বাচন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার কিংবা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তিনি বরাবরই যুক্তিপূর্ণ ও পরিমিত ভাষায় মতামত তুলে ধরেছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে নীতিগত সমালোচনার মাধ্যমে তিনি একটি ভিন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ তৈরি করেছেন বলে অনেকের অভিমত।

রাষ্ট্রের সংকটময় মুহূর্তে বিচক্ষণতা, ধৈর্য এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সমন্বয়ে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম এমন ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রপতির আসনে সবাই দেখতে চান। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন নাম আলোচনায় থাকলেও সম্ভাব্য বিবেচনায় শীর্ষ সারিতে রয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংলাপ, সমঝোতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজেকে একজন দায়িত্বশীল ও পরিমিতিবোধসম্পন্ন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ফলে জাতীয় সংকট বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে তিনি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অভিভাবক হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলে বিশ্লেষকদের বিশ্বাস।

বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, রাষ্ট্রপতির পদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা ও ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্বের সক্ষমতা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ক্ষেত্রে এই দুই বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান বলে অনেকে মনে করেন। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও তার ব্যক্তিগত সততা, শালীন আচরণ এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে প্রশংসিত হয়ে আসছে। এ কারণে দেশের যেকোনো সংকটকালে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পাশাপাশি সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা রক্ষায় তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে।