ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট সরবরাহের অভিযোগে যশোর পুলিশ হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান রফিকুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। রফিকুল যশোর সদর উপজেলার ইছালী গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, যশোর গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাইবার ক্রাইম শাখার পুলিশ সদস্য আসাদুর রহমান গত ১৪ জুলাই তার স্ত্রীকে নিয়ে পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে যান। চিকিৎসক রোগী দেখে সিবিসি ও টিএসএইচ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন।
এরপর আসাদুর রহমান তার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালের ল্যাবে গেলে রফিকুল ইসলাম টিএসএইচ পরীক্ষা বাইরে থেকে করানোর কথা বলে তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা গ্রহণ করেন। পরে তিনি সিবিসি পরীক্ষার রিপোর্ট পুলিশ হাসপাতালের প্যাডে এবং টিএসএইচ পরীক্ষার রিপোর্ট কুইন্স হাসপাতালের প্যাডে সরবরাহ করেন।
রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ানো শুরু করেন আসাদুর রহমান। পরদিন সন্ধ্যায় রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি রিপোর্ট নিয়ে পুনরায় পরীক্ষার জন্য কুইন্স হাসপাতালে যান। সেখানে কর্তৃপক্ষ তাদের সার্ভারে ওই রিপোর্টের কোনো তথ্য না পেয়ে সেটিকে ভুয়া বলে জানায়।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আসাদুর রহমান ইউনিট ইনচার্জকে অবহিত করেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম এর আগে কুইন্স হাসপাতালে চাকরি করতেন। জালিয়াতির অভিযোগে তাকে সেখান থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় আসাদুর রহমান যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলার ভিত্তিতে গোয়েন্দা শাখার সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এসআই দেবব্রত ঘোষ মঙ্গলবার রফিকুল ইসলামকে আটক করেন। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন