শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৫, ১১:৩৪ এএম

অস্তিত্ব সংকটে তালতলীর শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৫, ১১:৩৪ এএম

শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বঙ্গোপসাগরের তীরে বিস্তৃত শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত। ঝিরঝিরে বাতাসে দোল খায় সবুজ ঝাউবন, পাশে দীর্ঘ বালুময় সৈকত- প্রকৃতি প্রেমিকদের জন্য এক অনন্য সৌন্দর্যের মিলনমেলা। উপকূলীয় জেলা বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়ার চরে অবস্থিত এই সৈকত আজ অস্তিত্ব সংকটে।

ঘূর্ণিঝড় আইলা, আম্পান, ইয়াসসহ একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ধ্বংসের পথে শুভসন্ধ্যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ভেঙে যাচ্ছে সৈকতের পাড়, হারিয়ে যাচ্ছে ঝাউবন, যা ছিল এই বেলাভূমির প্রধান আকর্ষণ।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, টেংরাগিরি ম্যানগ্রোভ বনের অংশ এই ঝাউবনের প্রস্থ প্রায় ৫০ ফুট ও দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার। এক সময় এই বন ও সৈকত দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ছুটে আসতেন। জোছনার রাতে আয়োজন হতো উপমহাদেশের বৃহত্তম জোছনা উৎসব। লাখো মানুষের পদচারণায় মুখর থাকত সৈকতটি।

কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ বলেন, ‘সৈকতের মূল সৌন্দর্য ছিল ঝাউবন। এখন অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে সৈকতের পাড় ভেঙে যাচ্ছে, আর ঝাউবন হারিয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে।’

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঝাউবন রক্ষায় আগে থেকেই উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ২৫ হাজার গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধুমাত্র আম্পানে ক্ষয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার গাছ। এরপর ইয়াস ও জাওয়াদের আঘাতে টেংরাগিরি বনসহ শুভসন্ধ্যার ঝাউবনে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এদিকে, স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সৈকতের পাশে বেসরকারিভাবে ৩৬০ মেগাওয়াটের তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এই নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য সৈকতের পাড় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে, যা পাড় ভাঙনের অন্যতম কারণ।

ঘূর্ণিঝড় সিডর, আয়লা, নারগিস ও আম্পানের মতো দুর্যোগে এই ম্যানগ্রোভ বন উপকূলবাসীর জীবন ও সম্পদ রক্ষা করেছে। অথচ সেই রক্ষাকবচ আজ ধ্বংসের মুখে। বনটি না থাকলে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ত।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান খান বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।’

Link copied!