প্রায় ৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের ট্রেন যোগাযোগ সচল হয়েছে। জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা রেললাইন থেকে সরে আসেন।
রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাকৃবির জব্বারের মোড় থেকে শিক্ষার্থীরা উঠে আসলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাকৃবি জব্বারের মোড়ে ঢাকাগামী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে দেন শিক্ষার্থীরা। ওই ট্রেনটি এক ঘণ্টা আটকে রেখে ছেড়ে দেন। পরে দুপুর দেড়টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহসগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেন আটকে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীরা কৃষিবিদ ঐক্য পরিষদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং ডিপ্লোমাধারীদের ‘অযৌক্তিক’ দাবির প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করন। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা রেলপথ থেকে সরে আসেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ডিএই, বিএডিসি ও অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দশম গ্রেডের পদ, কেবল কৃষিবিদদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং কোনো ডিপ্লোমাধারীরা তাদের নামের পাশে কৃষিবিদ লিখতে পারবে না।
কৃষি অনুষদের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী জিহাদ হাসান সফল বলেন, ‘কৃষিবিদ ঐক্য পরিষদ ঘোষিত তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে রেলপথ অবরোধ করেছি। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।’
একই অনুষদের শিক্ষার্থী মুহতাসিম মুনীর বলেন, ‘ডিএই, বিএডিসিসহ অন্যান্য সব গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ১০ম গ্রেড (উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা/ উপ-সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা/সমমান) কৃষিবিদদের জন্য উন্মুক্ত করাসহ তিন দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।’
দাবিগুলো হলো:
- ডিএই, বিএডিসিসহ অন্যান্য সব গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ১০ম গ্রেড (উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা/উপ-সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা/সমমান) কৃষিবিদদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
- নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ব্যতীত ৯ম গ্রেডে (বিএডিসি-এর কোটা বাতিল) পদোন্নতির কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
- কৃষি বিষয়ক স্নাতক ব্যতীত নামের সাথে কৃষিবিদ পদবি ব্যবহার করা যাবে না। এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার হোসেন বলেন, ‘কৃষিবিদ ঐক্য পরিষদ ঘোষিত তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষােভ করে শিক্ষার্থীরা। পরে জেলা প্রশাসক বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা রেলপথ থেকে সরে আসে। এখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম বলেন, ‘ছাত্রদের প্রতিনিধি দল আগামী মঙ্গলবার কৃষি উপদেষ্টার সাথে বসে সমাধানের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা রেললাইন থেকে সরে আসে। পরবর্তী বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ দেখবেন বলেও জানান তিনি।’
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন