ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনের বগির অবস্থান নির্দেশনার অভাবে যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের। ট্রেন থামার স্বল্প সময়ের মধ্যে বগি খুঁজতে গিয়ে দৌড়াদৌড়ি, পড়ে যাওয়া এমনকি আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটত। এই সমস্যা দূর করতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্টেশনজুড়ে বগি-সংকেতের স্টিকার লাগিয়ে যাত্রীবান্ধব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রেলওয়ের ভ্রাম্যমাণ টিটিই আব্দুল আলীম বিশ্বাস মিঠু।
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রহনপুর, পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন একাধিক ট্রেন ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন হয়ে ঢাকা যাতায়াত করে। বড় প্ল্যাটফর্ম ও দীর্ঘ ছাউনি থাকা সত্ত্বেও ট্রেনের কোন বগি কোথায় থামবে-এ সংক্রান্ত কোনো পূর্ব নির্দেশনা না থাকায় যাত্রীরা পড়তেন চরম বিপাকে। ট্রেন মাত্র দুই থেকে তিন মিনিট থামায় সঠিক বগিতে উঠতে গিয়ে অনেকেই হুড়োহুড়ির শিকার হতেন। বগির দরজায় নাম বা চিহ্ন না থাকায় চলন্ত ট্রেনে ওঠার সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতো।
এই পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করে টিটিই আব্দুল আলীম বিশ্বাস মিঠু নিজ উদ্যোগে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের দরজায় বগির নাম অনুযায়ী বিশেষ স্টিকার লাগানোর কাজ শুরু করেন। ক, খ, গ থেকে শুরু করে ড, ঢ-সব বগির অবস্থান স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে তিনি তৈরি করেন সহজ ও পরিষ্কার নির্দেশনা।
এই উদ্যোগে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার এই মানবিক কাজের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ে।
যাত্রী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আগে বগি খুঁজতে গিয়ে প্রতিদিন হুড়োহুড়িতে পড়তে হতো। এখন স্টিকার দেখে সহজেই নিজের বগিতে উঠতে পারছি।’
ব্যবসায়ী দুর্জয় ইসলাম লিমন জানান, ‘অনেকে দৌড়াতে গিয়ে ট্রেন মিস করতেন। এখন সেই ঝামেলা নেই।’
টিটিই আব্দুল আলীম বিশ্বাস মিঠু বলেন, ‘প্রতিদিন মানুষের কষ্ট দেখতাম। তাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই কাজ শুরু করি। যাত্রীরা উপকৃত হচ্ছেন-এটাই আমার প্রাপ্তি।’
স্টেশনের কর্মচারী শুভ হোসেন বলেন, স্টিকার লাগানোর ফলে যাত্রীরা আর বগি নিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছেন না।
স্টেশনমাস্টার জানান, ‘মিঠু সাহেবের এই উদ্যোগে স্টেশনের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা সমাধান হয়েছে। রেলওয়ের পক্ষ থেকেও আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন