গাজীপুরের কোনাবাড়ী, আমবাগ রোড, নীল নগর এলাকায় অবস্থিত মকুল নীটওয়্যার লিমিটেড কারখানা বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিচালক বরাবর কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য লিখিত আবেদন করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোঃ মইনুল ইসলাম মকুল।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক রপ্তানির সঙ্গে জড়িত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ক্রয়াদেশ (অর্ডার) সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক সক্ষমতার মারাত্মক ঘাটতির কারণে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এজন্য কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উক্ত পরিস্থিতিতে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত) এর ধারা ২৮ক এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধি ২০১৫ এর বিধি ৩২ অনুসারে কারখানাটি ১৭ ডিসেম্বর থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপরোক্ত বিষয়াদি বিবেচনা করে বাংলাদেশের শ্রম আইন ২০০৬ এবং শ্রম বিধি ২০১৫ মোতাবেক মকুল নীটওয়্যার লিমিটেডের কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণার বিষয়ে সবাইকে অবগত করা হয়েছে।
অপরদিকে শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো আজও কারখানায় আসে কাজ করতে। এসে তারা দেখে গেটে স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণার নোটিশ সাঁটানো হয়েছে। এ সময় শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করতে দেখা গেছে।
কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর মোঃ সাগর আলী বলেন, “কর্তৃপক্ষ যদি কারখানা চালাতে না পারে, তবে আমাদের কিছু করার নেই। তবে শ্রম আইন অনুযায়ী আমাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হোক।”
ইলেকট্রিক্যাল ম্যান জুয়েল রহমান বলেন, “গত সোমবার অফিস করে বাসায় যাই। ১৬ ডিসেম্বর কারখানা বন্ধ ছিল। আজ সকালে এসে দেখি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আমরা কোথায় যাবো? বাসা ভাড়া, দোকান, বাচ্চাদের স্কুলের বেতন কিভাবে দেব?”
সুয়িং অপারেটর রেশমা আক্তার বলেন, “আমরা কিছুই জানি না। রানিং অফিস করছিলাম। আজ সকালে এসে দেখি অফিস স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। কেন বন্ধ হয়েছে তাও জানি না।”
অন্য সুয়িং অপারেটর আনোয়ারা বেগম বলেন, “আমরা ১৫ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ডিউটি করেছি। কারখানা বন্ধ করার আগে আমাদের কিছু জানাননি। আজ সকালে এসে দেখি কারখানা বন্ধ। কারখানা বন্ধ ঠিক আছে, তবে আমাদের টাকা পরিশোধ করা হোক।”
এ বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মইনুল ইসলাম মকুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ কোনাবাড়ী জোনের পরিদর্শক মোঃ মোর্শেদ জামান জানিয়েছেন, মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করবে বলে জানিয়েছেন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন