নামে গোল হলেও দেখতে মোটেও গোল নয়; তবে স্বাদে একেবারেই অনন্য। সুন্দরবনে জন্ম নেওয়া এই ব্যতিক্রমী ফল এখন উপকূল পেরিয়ে পর্যটকদের নজর কাড়ছে। বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হচ্ছে গোলফল। প্রতিটি ফলের দাম মাত্র ১০ টাকা।
জানা গেছে, গোলপাতার গাছে ভাদ্র-আশ্বিন মাসে ফুল ফোটে এবং কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে তা ফলে রূপ নেয়। ফলের বাইরের অংশ শক্ত হলেও ভেতরে থাকে লিচুর মতো নরম শাঁস, যা খাওয়ার উপযোগী। সামান্য লবণ বা হালকা মিষ্টির ছোঁয়ায় এর স্বাদ আরও বাড়ে, যা অনেক পর্যটকের কাছে নতুন ও আকর্ষণীয়।
উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে গোলফল পরিচিত হলেও দেশের অন্যান্য জেলার মানুষের কাছে এটি এখনো অনেকটাই অপরিচিত। ফলে পর্যটনের মৌসুমে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। শুধু সুন্দরবন নয়, উপকূলীয় এলাকার নিচু জমি ও বসতবাড়ির আঙিনাতেও গোলপাতার গাছ দেখা যায়। সেখান থেকেই ব্যবসায়ীরা ফল সংগ্রহ করে বাজারে সরবরাহ করছেন।
ষাট গম্বুজ মসজিদে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে গোলফল এখন বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের জন্য বা উপহার হিসেবে এই ফল কিনে নিচ্ছেন।
এক দর্শনার্থী বলেন, ছোটবেলায় গাছ থেকে পেড়ে গোলফল খেতাম। এখনকার বাচ্চারা এই ফলের নামও জানে না। ষাট গম্বুজের সামনে গোলফল দেখলে শৈশবের স্মৃতি ফিরে আসে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটনের মৌসুমে ষাট গম্বুজ মসজিদ এলাকায় গোলফলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। অনেক পর্যটক এই ফল উপহার হিসেবেও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।
সুন্দরবনের এই ঐতিহ্যবাহী ফল এখন পর্যটনের হাত ধরে নতুন পরিচয়ে ফিরছে। স্বাদ আর স্মৃতির মেলবন্ধনে গোলফল হয়ে উঠছে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।


