ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে কুকুরটিকে ফেলার প্রমাণ মেলেনি’

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলীর মাজারের দীঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেয়। তাতে বলা হয়, কুকুরটির সংস্পর্শে আসা বা কামড় খাওয়া ব্যক্তিরা জলাতঙ্কের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাট এলাকা থেকে একটি কুকুরকে শিকার করে দীঘিতে থাকা কুমির ‘ধলা পাহাড়’। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জেলা প্রশাসন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এরপর ১১ এপ্রিল বিকেলে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাজার এলাকায় কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। কুকুরটির মাথা ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)-তে পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য। ১৫ এপ্রিল ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পায় জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এতে নিশ্চিত হওয়া যায়, কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল।

তদন্ত কমিটির প্রধান বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিস্তারিত তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। মাজার দীঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত। তদন্তে কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে যায় এবং পরে কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়।