জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিও নীতিমালার বাইরে সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান) পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে ভোলার লালমোহনে পাঁচটি মাদ্রাসার প্রধানের ডিসেম্বর মাসের বেতন স্থগিত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের (গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান) নভেম্বর মাসের বিল এলেও ডিসেম্বর মাসের বিলের তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিয়ে বিল প্রস্তুত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
বেতন স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠান প্রধানরা হলেন: করিমগঞ্জ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন, ভেদুরিয়া সেরাজিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. সফিউল্লাহ, পূর্ব চরছকিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. কামাল উদ্দিন, মুসলিমিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. কামাল উদ্দিন জাফরী এবং পূর্ব ধলীগৌরনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. সাইফুল ইসলাম।
অন্যদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন: করিমগঞ্জ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার আকলিমা বেগম, ভেদুরিয়া সেরাজিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বিল্লাল, পূর্ব চরছকিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার মো. বাহার, মুসলিমিয়া দাখিল মাদ্রাসার মো. জামাল এবং পূর্ব ধলীগৌরনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার মো. রিয়াজ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এসব মাদ্রাসার প্রধানরা নিয়মবহির্ভূতভাবে পুরোনো তারিখের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অথবা কমিটির স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান) পদে নিয়োগ প্রদান করেন। এসব শিক্ষকের বেতন-ভাতা প্রস্তুত হলে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র আপত্তি দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের (গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান) ডিসেম্বর মাসের এমপিও শিট থেকে নাম বাদ দেয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতন-ভাতা স্থগিত করে।
বেতন স্থগিত হওয়া পূর্ব চরছকিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগে সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান) পদে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে একটি অডিও ক্লিপ অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই অডিওতে ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্যকে বলতে শোনা যায়, মাদ্রাসা সুপার কমিটির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে নিয়োগ প্রদান করেছেন। মাওলানা মো. কামাল উদ্দিন বর্তমানে ১১৭ ভোলা-০৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা জানান, কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের বেতন স্থগিত করেছে। কেন বেতন স্থগিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর আবুল খায়ের বলেন, লোকমুখে শুনেছেন পাঁচটি মাদ্রাসা প্রধানের বেতন স্থগিত হয়েছে। তবে দাপ্তরিকভাবে কোনো চিঠি না পাওয়ায় কেন তাদের বেতন স্থগিত করা হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ জানান, বিষয়টি তিনি বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তবে অফিসিয়ালি কোনো চিঠি তার কাছে আসেনি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


