ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নিজ জেলা দিয়েই রাজনীতির মাঠে তারেক রহমান

জিএম মিজান, বগুড়া
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফাইল ছবি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১১ জানুয়ারি (রোববার) নিজ জেলা বগুড়ায় আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তনের পর ঢাকার বাইরে এটিই হবে তার প্রথম রাজনৈতিক সফর। জন্মভূমি ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা বগুড়া দিয়েই মাঠের রাজনীতিতে সরাসরি সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন তিনি—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তারেক রহমানের এই আগমনকে ঘিরে বগুড়া জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। শুধু দলীয় কর্মীরাই নন, সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও আগ্রহ। দীর্ঘদিন পর নিজ জেলার মাটিতে দলের শীর্ষ নেতাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ—এ অনুভূতি বগুড়ার রাজনীতিতে নতুন গতি এনে দিয়েছে।

শহরজুড়ে প্রস্তুতি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বগুড়া শহরজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। পৌরসভার উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাগুলো নতুন করে সাজানো হচ্ছে। সংস্কার করা হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গোহাইল সড়ক—সাতমাথা থেকে ফুলতলা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে খানাখন্দে ভরা এই সড়কটি মাত্র ১০ দিন আগেও যানবাহন চলাচলের জন্য ছিল অত্যন্ত দুর্ভোগের। তারেক রহমানের সফরের প্রাক্কালে সড়কটি খানাখন্দ ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।

দলীয় কার্যালয় ও স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনায় নতুন রূপ

তারেক রহমানের জন্য জেলা বিএনপির কার্যালয়ে নির্ধারিত কক্ষটিও নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে কক্ষটির ফ্লোরে টাইলস বসানো, সিলিং ডেকোরেশন ও রঙের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া বগুড়া পৌরসভার উদ্যোগে শহরের শাকপালা এলাকায় তারেক রহমানের নামে করা পার্কটি সংস্কার করা হচ্ছে। শহরের রিয়াজ কাজী লেনে অবস্থিত ‘গ্রিন এস্টেট’ নামের বাড়িটিও সংস্কার করা হয়েছে। এই বাড়িটি তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে স্মৃতিবিজড়িত। একসময় এখান থেকেই তিনি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।

গণদোয়া ও পরবর্তী সফরসূচি

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১১ জানুয়ারি তারেক রহমান বগুড়ায় পৌঁছাবেন। পরদিন ১২ জানুয়ারি সকাল ১০টায় বগুড়া শহরের সেন্ট্রাল স্কুল মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজনে সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় গণদোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন তিনি। গণদোয়া শেষে সড়কপথে তিনি রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেখানে গিয়ে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করার কথা রয়েছে তার।

আচরণবিধির কারণে সংবর্ধনা নয়

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের আশঙ্কায় সেই আয়োজন রাখা হয়নি। তবে গণদোয়া মাহফিলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন বলে আমরা আশাবাদী।
 

রাজনৈতিক যাত্রাপথ ও নির্বাচনি প্রেক্ষাপট

রাজনৈতিকভাবে তারেক রহমানের বগুড়া আগমন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপির বগুড়া জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ২০১৮ সালে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সরাসরি প্রার্থী হয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বগুড়া-৬ (সদর) ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। ইতোমধ্যে তার উভয় মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন বার্তার অপেক্ষায় বগুড়া

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের বগুড়া সফর শুধুই একটি সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি বিএনপির রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন অনেকেই। নিজ জেলা থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে কী বার্তা দেন তিনি, সে দিকেই এখন তাকিয়ে বগুড়াবাসী ও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন।