ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কুয়াশায় পথ হারানো ৫০ বরযাত্রীকে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ঘন কুয়াশায় পথ হারিয়ে যমুনা নদীর ডুবো চরে আটকে পড়া ৫০ জন বরযাত্রীকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সারিয়াকান্দি ক্যাম্পের টহল টিম কালিতলা নৌঘাট থেকে তাদের উদ্ধার করে।

সেনাবাহিনী বরযাত্রীদের তীব্র শীতের মাঝেও বৈরী পরিস্থিতিতে নিরলসভাবে সহায়তা করেছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

জানা যায়, বুধবার সকালে জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলা নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের মাঝবাড়ি গ্রামের মোঃ খোরশেদ আলমের ছেলে শাকিল আহমেদের (২৩) বিয়ে উপলক্ষে ৫০ জন বরযাত্রী বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা গ্রামে যান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর-কনে এবং অতিথিরা সন্ধ্যায় নৌকাযোগে ইসলামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

নৌকাটি যমুনার মাঝনদীতে পৌঁছালে ঘন কুয়াশার কারণে মাঝি দিকনির্দেশনা হারিয়ে ডুবো চরে আটকে যায়। রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পথ খোঁজার চেষ্টা করা হলেও কুয়াশার কারণে কোনো দিকনির্দেশনা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নৌকাটি কালিতলা নৌঘাটে নোঙর করে।

তীব্র ঠান্ডা এবং ঘন কুয়াশায় বরযাত্রীরা কোন উপায় না পেয়ে কালিতলা নৌঘাটের একটি খোলা দোকানে আশ্রয় নেন। তখন সেনাবাহিনীর সারিয়াকান্দি ক্যাম্পের টহল টিম তাদের খুঁজে পেয়ে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

সকল বরযাত্রীকে কম্বল, সোয়েটার এবং খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। সারারাত তাদের খোঁজ খবর নেয়া হয়। সকালে তাদের নাস্তা করিয়ে নৌকায় করে বাড়ির উদ্দেশ্যে পৌঁছে দেয়া হয়।

মাঝবাড়ি গ্রামের আনোয়ারা বেগম বলেন, আমার নাতিকে বিয়ে করাতে এখানে এসেছি। বাড়ি ফেরার পথে ঘন কুয়াশায় পথ হারিয়ে ডুবো চরে আটকে পড়ি। কোন উপায় না পেয়ে নদীর পাড়েই আশ্রয় নেই। এমন সময় সেনাবাহিনী আমাদের খুঁজে পায় এবং ক্যাম্পে নিয়ে আসে। সেখানে থাকার ঘর, কম্বল, সোয়েটার এবং খাবারসহ অনেক যত্ন করেন।

একই গ্রামের মোঃ আছাদ বলেন, আমরা কোন উপায় না পেয়ে এই তীব্র শীতের মধ্যে নদীর পাশে অনেক কষ্ট করছিলাম। আমাদের কষ্ট দেখে সেনাবাহিনী আমাদের উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে। আমরা সেনাবাহিনীর কাছে ঋণী হয়ে গেলাম। তাদের এই সহায়তা আমরা কোনদিনও ভুলব না। তারা অনেক ভালো মানুষ, আল্লাহ যেন তাদের সুস্থ ও ভালো রাখেন।