বগুড়ার ধুনটে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) পদ শূন্য থাকায় জমি-সংক্রান্ত নাগরিক সেবা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে জমি ক্রয়-বিক্রয়, খারিজ (নামজারি)সহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। খারিজ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জমির দলিল সম্পাদনও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। অনেকেই জমি ক্রয় বা বিক্রয় করলেও নামজারি সম্পন্ন করতে না পারায় আইনগত জটিলতায় পড়ছেন।
স্থানীয়রা জানান, কালেরপাড়া ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) জাকির হোসেন তিন মাস দায়িত্ব পালন করার পর দুই মাস আগে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি চলে যাওয়ার পর থেকে খারিজ কার্যক্রম স্থবির রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, গত দুই মাস ধরে ভূমি অফিসে ঘুরেও কোনো সেবা পাচ্ছেন না। প্রতিবারই ‘নায়েব নেই, পরে আসেন’- এমন কথায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া নায়েবের অনুপস্থিতিতে অন্যান্য সহকারী কর্মকর্তারাও সেবা প্রদানে অনীহা দেখাচ্ছেন। ফলে সাধারণ পরামর্শমূলক সেবাও থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা। শুধু তাই নয়, অতীতে কালেরপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এমনকি অফিসের অবকাঠামোগত অবস্থাও নাজুক। অফিসে নেই কোনো সাইনবোর্ড বা নাগরিক নির্দেশিকা। কাঠের দরজা-জানালাও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে কালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন শিপন বলেন, ‘ভূমি অফিসটি আমার কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কর্মকর্তা না থাকায় সাময়িকভাবে সেবায় বিঘ্ন হওয়াটা স্বাভাবিক।’
ধুনট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত নতুন কর্মকর্তা যোগদান করবেন বলে আশা করছি।’

-20260330155828.webp)

