ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সরকারি চাল চুরি করে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

বগুড়ার নন্দীগ্রামে সরকারি ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়ম, চুরি ও কালোবাজারে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শামছুর রহমান, যিনি থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকাকালে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম করেছেন এবং বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল গোপনে সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ২ হাজার ১১৮ জন উপকারভোগীর মধ্যে জনপ্রতি ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়।

কিন্তু বিতরণ শেষে পরিষদ ফাঁকা হওয়ার পরপরই দুটি অটোভ্যানে করে ৩৪ বস্তা (প্রায় ১ হাজার ৭০০ কেজি) চাল বের করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে সংরক্ষিত চাল অটোভ্যানে তোলা হচ্ছে এবং সেখানে প্যানেল চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

উপকারভোগীদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেককে ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেকে ৮ থেকে ৯ কেজি করে পেয়েছেন। অনেক দরিদ্র ব্যক্তি নির্ধারিত সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ৪, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অনেকেই চাল পাননি বলে জানান স্থানীয়রা। স্বাক্ষর ও টিপসই জাল করে চাল আত্মসাতের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।

এ ছাড়া ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, স্যানিটেশন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে গৃহীত প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন কর বাবদ প্রায় ৬ লাখ টাকা এখনো সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান শামছুর রহমান। তিনি বলেন, আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। তবে ভিডিও প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার বলেন, ভিডিওটি তারা দেখেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আরা ফোন রিসিভ না করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।