ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বগুড়ায় ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা, ৫ জনকে অব্যাহতি

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

বগুড়ার শেরপুরে দাখিল পরীক্ষার গণিত বিষয়ে নতুন সিলেবাসের শিক্ষার্থীদের হাতে ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে হল সুপার ও চার কক্ষ পরিদর্শককে পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদস্যরা হলেন— উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার এবং শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মো. জাকির হোসেন।

প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবহেলার দায়ে অব্যাহতি

দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে যাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তারা হলেন- হল সুপার হায়দার আলী, কক্ষ পরিদর্শক হাসনা খাতুন, জোবায়দা খাতুন, কাওছার আহম্মেদ ও মামুনুর রশিদ।

কী ঘটেছিল

জানা গেছে, গত রোববার (২৬ এপ্রিল) শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসা কেন্দ্রের ১০১ ও ১০২ নম্বর কক্ষে মোট ২৯ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল ফুলতলা দাখিল মাদরাসার ১০ জন, রাজারদীঘির ১৩ জন, চকসাদির ৩ জন এবং উলিপুর

আমেরিয়া মাদরাসার ৩ জন শিক্ষার্থী।

সবাই নতুন সিলেবাসের শিক্ষার্থী হলেও পরীক্ষার শুরুতে তাদের হাতে ২০২৫ সালের পুরোনো সিলেবাসের গণিত প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পারে। পরে অভিভাবকদের জানালে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ফলাফল নিয়ে শঙ্কা

ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং পরীক্ষার ফলাফলে কোনো প্রভাব না পড়ার নিশ্চয়তা দাবি করেছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন, “এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। পরীক্ষার সময় বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। পরে বোর্ডের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে না।”

ইউএনও মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তবে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় প্রশ্ন

একটি কেন্দ্রীয় পাবলিক পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও তদারকির ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।