বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স (বিএসএস) সনদ জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে বাদী মাসুদ আলী মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) নাটোরের সিংড়া আমলি আদালতে তিনি মামলাটি দায়ের করেন।
সিংড়া আমলি আদালতের বিচারক সারোয়ার জাহান মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী বছরের ১ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নাটোর পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের সিংড়া উপজেলার থাওইল গ্রামের মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে মাসুদ আলী ১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসএস বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২১২৪৯৩ এবং পরীক্ষার রোল ১৩৬৮৬৯। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তিনি আর পরীক্ষায় অংশ নেননি।
অভিযোগ অনুযায়ী, বগুড়ার নন্দীগ্রামের বুড়ইল গ্রামের মৃত হামির উদ্দিন সরকারের ছেলে মোশারফ হোসেন (৫১) মাসুদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও সেশন ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে ১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষে বিএসএস দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাশ দেখান এবং সনদপত্র সংগ্রহ করেন।
জাল সনদ দেখিয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে তিনি বগুড়ার কাহালুর আজিজুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে নিয়োগ লাভ করেন।
মামলার বাদী মাসুদ আলী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মোশারফ তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর জালিয়াতি করে বড় ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারেন, যা তার জন্য চরম ও অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
মাসুদ আলী বলেন, “আমি একজন সাধারণ কৃষক। আমার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর জালিয়াতি করে মোশারফ জাল সনদ তৈরি করেছেন। তাই আমি প্রতিকার চাইতে এই মামলা করেছি।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী মাসুদ রানা জানান, বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই নাটোরকে আগামী বছরের ১ মার্চ পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, মোশারফ হোসেন অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে জানান, গত ২৮ মে তিনি প্রভেশনাল সনদপত্র জমা দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পাশের মূল সনদপত্র সংগ্রহ করেছেন।
তিনি বলেন, তার বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এই মামলা করেছেন। তিনি নির্বাচনি এলাকার মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সতর্ক করেছেন।


