× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

নবীনগরে বারি সরিষা-২০ জাতে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

নবীনগরে বারি সরিষা-২০ এর  খেতে কৃষকরা। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

নবীনগরে বারি সরিষা-২০ এর খেতে কৃষকরা। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সরিষা উৎপাদনে জেলায় দ্বিতীয় স্থানে। উপজেলাজুড়ে প্রায় ৪১৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়। প্রথমবারের মতো আবাদ হয়েছে উচ্চফলনশীল উন্নত জাতের বারি সরিষা-২০। দেশে ভোজ্যতেল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত উন্নত সরিষা জাত বারি সরিষা-২০ কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্বল্প মেয়াদ, উচ্চ ফলন ও রোগ সহনশীল বৈশিষ্ট্যের কারণে এ জাতটি বর্তমানে বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বারি সরিষা-২০ একটি স্বল্পমেয়াদি জাত, যার জীবনকাল প্রায় ৮৫-৯০ দিন। আমন ধান কাটার পর পতিত জমিতে এই সরিষা চাষ করা সম্ভব হওয়ায় উচ্চফলনশীল জাতের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। 

বারি সরিষা-২০ প্রতি হেক্টরে গড়ে ২ থেকে ২.২ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়, যা প্রচলিত অনেক জাতের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি বীজে তেলের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও সন্তোষজনক। রোগ সহনশীলতা ও জলবায়ু উপযোগিতা এই জাতটি লিফ ব্লাইটসহ সাধারণ রোগের বিরুদ্ধে সহনশীল এবং কম সেচে ভালো ফলন দিতে সক্ষম। ফলে খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এটি একটি উপযোগী জাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নবীনগর উপজেলায় প্রথমবারের মতো দশ বিঘা জমিতে কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নতুন জাতের সম্প্রসারণ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের প্রদর্শনী উপকরণ সহয়তা দেওয়া হয়। সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, মাঠের অন্যান্য জাত বিশেষ করে বারি সরিষা-১৪ এবং বারি সরিষা-১৭, বিনা সরিষা-৪ থেকে গাছের উচ্চতা এবং গুটির সংখ্যা অনেক বেশি, গাছও বেশ শক্ত। 

বিটঘর ইউনিয়নের কৃষক সুমি আক্তার জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে উপসহকারী কৃষি অফিসার মহিউদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে বারি সরিষা-২০ জাতের সরিষা আবাদের প্রদর্শনী গ্রহণ করি। এখন মাঠের যে অবস্থা এলাকার সবাই বীজ রাখতে উদ্ভুদ্ধ করছে। আশা করি, বিঘা প্রতি ৭ মনের মতো ফলন পাব। 

বিটঘর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি অফিসার মহিউদ্দিন রিপন বলেন, বারি সরিষা ২০ জাতের পরিচর্যা তুলনামূলক কম লাগে, গাছ শক্ত হয় এবং গুটির সংখ্যা বেশি হয়। এতে উৎপাদন খরচ কমে আসছে এবং লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করছি। আগামী মৌসুমে এটি অনেক আবাদ হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, কৃষকদের নতুন জাতের সরিষা আবাদের জন্য সম্প্রসারণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বারি সরিষা-২০ ফলন অন্যান্য জাতের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি হবে। এই মৌসুমে প্রথমবারের মতো দশ বিঘাতে আবাদ হয়েছে, আগামী মৌসুমে নবীনগর উপজেলার জন্য আমরা ৫০০ বিঘা জমিতে বারি সরিষা-২০ সম্প্রসারণের লক্ষ্য বীজ সংরক্ষণ করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন জানান, বারি সরিষা-২০ জাতের কয়েকটি জমি পরিদর্শন করেছি, সরিষার যে পরিমাণ গুটি হয়েছে। যদি রোগ বালাই মুক্ত, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা এবং হালকা সেচের ব্যবস্থা করা যায় আগামীতে এই জাত সরিষার তেল উৎপাদনে বিপ্লব নিয়ে আসবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং উন্নত বীজ সরবরাহের মাধ্যমে বারি সরিষা-২০ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই জাতের আবাদ বাড়লে দেশে ভোজ্যতেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।

Link copied!