ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার বিভিন্ন হাটবাজারে হু হু করে বাড়ছে সবজির দাম। ৬০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে কৃষকদের ক্ষতি হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া মৌসুমি অনেক সবজির সময় শেষ হওয়ায় সংকট তৈরি হয়ে দাম বেড়েছে। তবে এ অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দ্রুত দাম কমে আসবে।
সরেজমিনে পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকার সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, পটোল ৭০-৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০-৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০-৮০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, শসা ৮০-৯০ টাকা, করলা ৮০-৯০ টাকা, আলু ২৮-৩০ টাকা, টমেটো ৭০-৮০ টাকা, পেঁপে ৬০-৭০ টাকা, কাঁকরোল ৯০-১০০ টাকা, মরিচ ১৩০-১৪০ টাকা, গাজর ৮০-৯০ টাকা, মুলা ৫৫-৬০ টাকা, প্রতি পিস লাউ ৫০-৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৬০ টাকা, কাঁচকলা প্রতি হালি ৩০-৩৫ টাকা, ধনিয়াপাতা প্রতি কেজি ১০০-১১০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দাম বাড়ার কারণে ক্রেতাদের কেনার পরিমাণও কমে গেছে। আগে যেখানে একজন ক্রেতা এক কেজি সবজি কিনতেন, এখন অনেকেই আধা কেজি করে কিনছেন। ফলে ছোট ব্যবসায়ীরাও আগের তুলনায় কম পরিমাণে সবজি তুলছেন।
ক্রেতা সবুজ মিয়া বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরেই সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এখন ৩০০ টাকার নিচে ঠিকমতো সবজির বাজার করাই কঠিন হয়ে পড়ছে। দাম বৃদ্ধির আগে যে সবজি এক কেজি করে কিনতাম, এখন বাধ্য হয়ে আধা কেজি বা তারও কম কিনতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম এমনিতেই বেশি। তার ওপর সবজির দাম বাড়ায় সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
রিকশাচালক মো. মহসিন মিয়া বলেন, ‘কিছুদিন আগে সবজির দাম অনেক কম ছিল। ১০০ টাকায় দুই-তিন ধরনের সবজি কেনা যেত। কিন্তু এখন তা আর সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সবজি খাওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছে।’
রিপন মিয়া বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে সবজির দাম বেশ চড়া। ইচ্ছা করলেও কোনো কিছু কিনে খাওয়া যায় না।’
মো. ইয়াছিন মিয়া বলেন, ‘বাজারে প্রায় সব সবজির দাম ৬০ টাকার ওপরে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সবজি খাওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। যে টাকা নিয়ে বাজার করতে এসেছি, এখন দেখছি দু-তিন রকম সবজি কিনলেই টাকা শেষ হয়ে যায়। অন্যান্য জিনিস তো আর কেনা যায় না। মোটকথা, আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ খুব কষ্টে আছে।’
সবজি বিক্রেতা আজিজ মিয়া বলেন, ‘সবজির দাম বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। তার ওপর গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কৃষকদের অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে। আবার অনেক সবজির মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহও কমে গেছে। তাই বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে এ অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম কমে আসবে।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন