ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিএনপির অধিকাংশ প্রার্থী কোটিপতি, পিছিয়ে জামায়াত

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর অধিকাংশই কোটিপতি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা মূলত লাখপতি।

বিএনপির এক প্রার্থীর নগদ অর্থ তুলনামূলক কম দেখানো হলেও তার কাছে কোটি টাকা মূল্যের তিনটি গাড়ি রয়েছে। আবার সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের টকশো থেকে বছরে আয় মাত্র দেড় লাখ টাকা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।

চাঁদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আ ন ম এহসানুল হক মিলন পেশায় রাজনীতিক। তার নগদ সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার ২৩৬ টাকা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হিসেবে বছরে ছয় লাখ টাকা এবং টকশো থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করেন। তার কাছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। বিগত বছরে তার নামে ১৯টি মামলা থাকলেও সবকটি থেকেই তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুর আহমদ পেশায় শিক্ষক। তার নগদ সম্পদ ৩১ লাখ ২৫ হাজার ৫২৯ টাকা। শিক্ষকতা থেকে তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৯ টাকা। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই।

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন পেশায় ব্যবসায়ী। তার নগদ সম্পদ ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮০ টাকা। তার কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি লাইসেন্সকৃত গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৯৬ লাখ টাকা।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুল মোবিন পেশায় চিকিৎসক। তার নগদ সম্পদের পরিমাণ ১৬ লাখ ৬২ হাজার ২৮০ টাকা। তার আয়ের উৎস বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাসেবা। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই।

চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ পেশায় ব্যবসায়ী। বিগত বছরে তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা থাকলেও সবকটি থেকেই তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তার নগদ সম্পদ ১ কোটি ১০ লাখ ৯৪ হাজার ৩৮৭ টাকা। তার আয়ের উৎস ব্যবসা, স্ত্রীর আয় ও বাণিজ্যিক ভাড়া। তার কাছে একটি পিস্তল, একটি শটগানসহ দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং একটি গাড়ি রয়েছে, যার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ টাকা।

একই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহজাহান মিয়া পেশায় আইনজীবী। তার নগদ সম্পদ ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৪৭ টাকা। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশিদ পেশায় ব্যবসায়ী। তার নগদ সম্পদের পরিমাণ ২৬ লাখ ৮৫ হাজার ৯৮২ টাকা। তার কাছে তিনটি গাড়ি রয়েছে—টয়োটা ক্রাউন (৩১ লাখ টাকা), ল্যান্ড ক্রুজার জিপ (৬৭ লাখ টাকা) ও একটি মাইক্রোবাস (২৭ লাখ টাকা)। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী পেশায় শিক্ষক। তার নগদ সম্পদ মাত্র ২০ হাজার টাকা। তার কাছে একটি গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই।

এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান পেশায় ব্যবসায়ী। তার নগদ সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ১২২ টাকা। তার একটি গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৬২৪ টাকা।

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মমিনুল হক পেশায় ব্যবসায়ী। বিগত সময়ে তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা ছিল, যার মধ্যে দুটি থেকে অব্যাহতি এবং দুটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার নগদ সম্পদ ২৫ লাখ ৩০ হাজার ৯২০ টাকা। তার একটি মোটরসাইকেল রয়েছে, যার মূল্য ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. আবুল হোসাইন পেশায় শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে আগে ১৩টি মামলা থাকলেও সবকটি থেকেই তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তার নগদ সম্পদ এক লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫০ হাজার টাকা। তার কোনো যানবাহন বা আগ্নেয়াস্ত্র নেই।