ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শাটডাউনে যেতে পারে বন্দর, মঙ্গলবার থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি

চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়া বন্ধ করার দাবিতে টানা তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতিতে ইতোমধ্যেই অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম। বন্ধ রয়েছে পণ্য ওঠা-নামাও। এরই মধ্যে আমদানি পণ্যের ডেলিভারি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং বন্দরের ভেতরে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিক ও কর্মচারীদের এই কর্মবিরতির কারণে সমুদ্রপথে জাহাজের জট বাড়ছে। এসব জেনেও ফের মঙ্গলবার সকাল থেকে এবার ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। শ্রমিক ও কর্মচারীরা দাবি করেছেন, ‘বিদেশি ব্যবসায়ীদের হাত থেকে বন্দর বাঁচাতে আন্দোলনের বিকল্প নেই। প্রয়োজনে আমরা বন্দর শাটডাউনের মতো অবরোধের ঘোষণা দেব।’

আন্দোলন ঠেকাতে ইতোমধ্যে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীরসহ আন্দোলনে জড়িত অন্তত ১৬ জন কর্মচারীকে ঢাকার পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন দেশের অর্থনীতির স্বার্থে, নিরাপত্তার স্বার্থে। কে কাকে কোথায় বদলি করেছে, এটা এখন মূল বিষয় নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন্দরের সর্বস্তরের কর্মচারীরা এই আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন।’

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন: বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন, আনোয়ারুল আজিম, ফরিদুর রহমান, শামসু মিয়া টুকু প্রমুখ।

বারিকবিল্ডিং থেকে সল্টগোলা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরের গেইটগুলো খোলা। গাড়ি প্রবেশ করছে না, বেরও হচ্ছে না। সতর্ক রয়েছেন বন্দরের নিরাপত্তা রক্ষী ও পুলিশ সদস্যরা।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আমাদের কর্মসূচি চলছে। সিএমপির নিষেধাজ্ঞার কারণে বন্দরে আমরা মিছিল বা সমাবেশ দিইনি।’

এদিকে বন্দরে তিন দিন আট ঘণ্টা করে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। তাদের মতে, আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনার জট বেড়ে যাবে। এর প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের খোলা বাজারে।