চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটি।
বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বন্দর শ্রমিক ও কর্মচারীরা এ কর্মবিরতি শুরু করেন।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) কর্মসূচির ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন। অপর সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর জানান, সরকার যতক্ষণ না এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে, ততক্ষণ এই কর্মবিরতি চলবে। কর্মসূচিতে বন্দরের সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বুধবার বন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, সম্প্রতি বদলি হওয়া ১৬ জন কর্মচারী নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। ফলে কনটেইনার হ্যান্ডলিংসহ বন্দরের প্রায় সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় বন্দরে পণ্যের জট তৈরি হয়েছে।
এর আগে, আন্দোলনকারীরা শনিবার থেকে টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে এবং মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন। তাদের দাবি, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘টানা পঞ্চম দিনের মতো কর্মবিরতি চলছে। বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এমনকি বহির্নোঙরেও কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এনসিটির ইজারা বাতিল ও শ্রমিকদের বদলির আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলমান থাকবে।
এ বিষয়ে নৌ-পরিবহন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এনসিটি ইজারা দেওয়ার চুক্তি এখনো প্রক্রিয়াধীন। চুক্তিটি দেশের স্বার্থে হলে হবে, না হলে হবে না। রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে সরকার কোনো কাজ করছে না। এরপরও কাদের স্বার্থে এই আন্দোলন হচ্ছে, তা আমি জানি না।’
এদিকে আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রথমে ১৬ জন কর্মচারীকে ঢাকার পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করলেও পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়। তবে বদলি আদেশ পাওয়ার পরও তারা নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। এতে বন্দরের কার্যক্রম নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় জি-টু-জি ভিত্তিতে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটি তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়া হলে শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন।
শুরুতে আন্দোলন মিছিল ও সমাবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এনসিটি চুক্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে কঠোর কর্মসূচির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। বর্তমানে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে শ্রমিক-কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন