চট্টগ্রাম–৯ আসনের উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদাকে সামনে রেখে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক। ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইশতেহারটি উপস্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. ফজলুল হক বলেন, চট্টগ্রাম-৯ আসন একটি ঘনবসতিপূর্ণ নগর ও শিল্পাঞ্চলভিত্তিক এলাকা। এখানে শ্রমজীবী মানুষ, নারী কর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও তরুণ সমাজই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তবে অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাবদ্ধতা, কর্মসংস্থানের সংকট ও নাগরিক সেবার ঘাটতিতে মানুষের জীবন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতা পরিবর্তন করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি। ক্ষমতা নয়, জনগণের সেবাকেই তিনি অগ্রাধিকার দেবেন বলে উল্লেখ করেন।
ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে আধুনিক কমিউনিটি হেলথ সেন্টার স্থাপনের অঙ্গীকার করা হয়। একই সঙ্গে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, ২৪ ঘণ্টার জরুরি চিকিৎসা, স্বল্প ব্যয়ে ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং টেলিমেডিসিন চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে ডা. ফজলুল হক বলেন, আধুনিক ও ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি তরুণদের জন্য এআই সার্টিফিকেশন কোর্স, রোবোটিকস প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও সায়েন্স ক্লাব গড়ে তোলা হবে। পাবলিক লাইব্রেরি, শিক্ষাবৃত্তি ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে কর্মমুখী মানবসম্পদ তৈরির কথাও বলেন তিনি।
চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে ডেটাভিত্তিক মাস্টার ড্রেনেজ প্ল্যান বাস্তবায়ন, খাল–নালা পুনঃখনন এবং পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। সিসিটিভি নজরদারি ও কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারের পাশাপাশি মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কাউন্সেলিং ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
নারী অধিকার বিষয়ে ডা. ফজলুল হক বলেন, গার্মেন্টসসহ সব খাতে কর্মরত নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সমান কাজে সমান মজুরি, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ডে-কেয়ার সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
বাজার ব্যবস্থাপনায় সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার গঠন, ন্যায্যমূল্যের বাজার চালু এবং হকার ও দিনমজুরদের জন্য পরিকল্পিত ফ্লি মার্কেট স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও স্থানীয় শিল্পায়নে সহায়তার কথাও তুলে ধরেন।
আবাসন ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে নিম্নবিত্ত ও বস্তিবাসীদের জন্য নিরাপদ আবাসন প্রকল্প, বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন এবং ডিজিটাল নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়। একই সঙ্গে করদাতাদের অর্থ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতিও দেন এই প্রার্থী।
যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পিত সড়ক ও ফুটপাত নির্মাণ, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, মাল্টিলেভেল পার্কিং এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া প্রবাসী কল্যাণে ভিসা প্রক্রিয়ায় দালাল নির্মূল, দক্ষতা ও ভাষা প্রশিক্ষণ এবং অসহায় প্রবাসীদের সামাজিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পরিবেশ ও সংস্কৃতি রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের কথাও তুলে ধরা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নয়; উন্নয়ন মানে মানুষের নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার ও মানবিক মর্যাদা। তিনি চট্টগ্রাম–৯ আসনকে একটি আধুনিক, কর্মসংস্থানসমৃদ্ধ ও মানবিক নগর জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।


