চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় কাঁচি দিয়ে মা-বাবাকে নির্মমভাবে হত্যার আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিহত দম্পতির একমাত্র ছেলে রমিরাজ দাশকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) আনোয়ারা থানা পুলিশের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে রমিরাজ দাশের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি ঘরে থাকা একটি কাঁচি দিয়ে প্রথমে তার মা কল্পনা দাশ গুপ্তকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে বাবা স্বপন দাশ গুপ্তকেও একই কাঁচি দিয়ে গলা ও পেটে আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই কল্পনা দাশ গুপ্ত মারা যান। গুরুতর আহত স্বপন দাশ গুপ্তকে স্থানীয়রা আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত রমিরাজ দাশ নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত কাঁচিটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও মানসিক ক্ষোভের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, নিহত স্বপন দাশ গুপ্তের ভাই তপন দাশ গুপ্ত (৫৭) এ ঘটনায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

