দেশে লাগামহীন বাড়িভাড়া বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিশ্চিত এবং আবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ১৫ দফা দাবি জানিয়েছে সামাজিক সংগঠন রাইট টক বাংলাদেশ। সংগঠনটি জানিয়েছে, এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে শিগগিরই দাবির পক্ষে সামাজিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সম্প্রতি প্রকাশিত সংগঠনটির একটি প্রচারপত্রে বাড়িভাড়াকে দেশের অন্যতম বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অতিরিক্ত বাড়িভাড়ার কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। পাশাপাশি এটি দুর্নীতিরও একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রচারপত্রে বাড়িভাড়া আইন-১৯৯১ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারিভাবে বাড়িভাড়া নির্ধারণ, ফ্ল্যাট বা কক্ষের আয়তন (স্কয়ারফুট) অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ এবং প্রতিটি ভবনের সামনে ভাড়ার তালিকা টানিয়ে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ঘন ঘন বাড়িভাড়া বৃদ্ধি বন্ধ, সর্বোচ্চ এক মাসের ভাড়া জামানত নেওয়া, ভাড়াটিয়াদের কাছে ভবনের গেট ও ছাদের চাবি রাখার ব্যবস্থা এবং বাড়ির মালিকদের ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির দাবির মধ্যে আরও রয়েছে—প্রতিটি ভবনে পর্যাপ্ত পার্কিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, অগ্নিকাণ্ডসহ জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বের হওয়ার জন্য লিফটের পাশাপাশি বাইরের সিঁড়ির ব্যবস্থা রাখা, প্রতিটি ভবনের সামনে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন স্থাপন এবং সিটি করপোরেশন ও রাজউকের নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অযৌক্তিক নজরদারি বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
রাইট টক বাংলাদেশ বলেছে, জনস্বার্থে উত্থাপিত ১৫ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে এসব দাবির পক্ষে সামাজিকভাবে সংগঠিত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

