আগামী আগস্ট মাস থেকেই চালু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত প্রবাসী কার্ড। প্রথম পর্যায়ে ৫০ হাজার নারী কর্মীকে এই কার্ড দেওয়া হবে। কার্ডধারী প্রবাসীরা বিমানবন্দরে বিশেষ ইমিগ্রেশন সুবিধা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ, সরকারি হাসপাতালে বিশেষ সেবাসহ প্রায় ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন।
প্রতি বছর জীবিকার সন্ধানে লাখো মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। তবে বিদেশযাত্রার শুরু থেকে কর্মস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত নানা ধরনের প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হন অনেক প্রবাসী। দেশে ফেরার পরও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা সংস্থায় ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা কমাতে সরকার প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার, বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সুবিধা, বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ছাড়, ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডে এয়ারপোর্ট পিক-অ্যান্ড-ড্রপ সুবিধা পাবেন।
এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ, বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ ছাড়, কার্ডধারীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনা, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা, জমি নিবন্ধন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার সুবিধাও থাকবে।
প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে এই কার্ড ইস্যু করা হবে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবর রহমান জানান, আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিনির্ভর এই কার্ড ব্যবহার করে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে অর্থ লেনদেন করা যাবে। আগামী আগস্টে প্রথম ধাপে ৫০ হাজার নারী কর্মীকে এই সেবা দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী কার্ডের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। প্রবাসীরা যাতে সহজে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন এবং দ্রুত সরকারি সেবা পান, তা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রাথমিক পর্যায়ে বিএমইটি (জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো)-এর কার্ডধারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ড বিতরণ করা হবে।

