কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের পালাকাটা থেকে বদিউদ্দিনপাড়া সড়ক এবং বদিউদ্দিনপাড়া থেকে সবুজবাজার পর্যন্ত চার-পাঁচ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মানুষের চলাচলের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সড়কটিতে ইট বিছিয়ে উন্নয়নকাজ করা হয়েছিল; কিন্তু দীর্ঘ ৮-১০ বছরেও কোনো সংস্কার হয়নি। সড়কের প্রায় পুরো দৈর্ঘ্যজুড়ে রয়েছে অসংখ্য গর্ত। অনেক জায়গায় ইট উঠে গিয়ে রাস্তা অসমান হয়ে গেছে। ইট পাশের খাল বা ফসলি জমিতে পড়ে যায়।
ফলে গাড়ি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানো কঠিন হয়ে গেছে। ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, অনেকেই আহত হচ্ছেন। রাতের বেলা হেঁটে চলাও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে।
বদিউদ্দিনপাড়া, সাইটপাড়া, ছরিপাড়া, বকশিয়াঘোনাসহ কয়েকটি এলাকার প্রায় ৩০-৪০ হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। শিক্ষার্থী, রোগী, নারী ও বৃদ্ধ সবাই ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দু মালেক বলেন, সড়কটি ইট বিছিয়ে করা হয়েছিল। এর পর থেকে কোনো সংস্কার হয়নি। মানুষ এখনো ভাঙাচোরা ইটের ওপর ভর করে চলাচল করছে। এতে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
রাজাখালী বিইউআই ফাজিল মাদ্রাসা, রাজাখালী এয়ার আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়, সুন্দরীপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, ফৈজুন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ফৈজুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীর প্রতিদিনের যাতায়াতও এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।
একজন স্থানীয় অটোরিকশাচালক বলেন, রাস্তার অবস্থার কারণে যাত্রী তুলতে পারছি না, আয়ও কমে গেছে। গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এ ছাড়া এই সড়ক দিয়েই রাজাখালী ও আরবশাহ বাজারে প্রতি মঙ্গল ও শুক্রবার মানুষ সাপ্তাহিক বাজার করতে যান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আবছার বদু বলেন, আমার ইউনিয়নের বেশির ভাগ রাস্তা অকেজো। বদিউদ্দিনপাড়া সড়ক সম্পূর্ণ ভেঙে হাঁটার মতো অবস্থা নেই। উপজেলা প্রশাসন ও ইউপির প্রশাসকের কাছে অনুরোধ করি, দ্রুত সংস্কার করে মানুষের কষ্ট দূর করা হোক।
রাজাখালী ইউপি সচিব আল আমিন বলেন, সড়কের মাঝখানে অনেক গর্ত হয়েছে, চলাচলের অবস্থা খুবই নাজুক। ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হবে।
পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাশ বলেন, এ সড়ক কোনো প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত নয়। ভবিষ্যতে প্রকল্প এলে এটিকে টেকসইভাবে সংস্কার করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন