কক্সবাজার জেলার চারটি আসনেই বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই চারটি আসনে বিজয়ীদের ফল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান।
কক্সবাজারে বেসরকারিভাবে চূড়ান্ত বিজয়ীরা হলেন—
কক্সবাজার-১ : বিএনপির সালাউদ্দিন আহমেদ
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার ৪৯০ জন। পোস্টাল ব্যালটসহ মোট ১৭৮টি ভোট কেন্দ্রের ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ২২ হাজার ১৯ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবদুল্লাহ আল ফারুক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৭২৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সারওয়ার আলী কুতুবী হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২৮ ভোট।
কক্সবাজার-২ : বিএনপির আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫১। পোস্টাল ব্যালটসহ মোট ১২৫টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৩ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৮৯ ভোট।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জিয়াউল হক (হাতপাখা) ৮ হাজার ৭৯৯ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল হক (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৭৫৭ ভোট ও গণঅধিকার পরিষদ এস এম রোকনুজ্জামান খান (ট্রাক) পেয়েছেন ১৯৭ ভোট।
কক্সবাজার-৩ : বিএনপির লুৎফুর রহমান
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬৪ জন। পোস্টাল ব্যালটসহ মোট ১৮৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৬ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শহীদুল আলম বাহাদুর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৮২৭ ভোট।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুল ইসলাম (হাতপাখা) পেয়েছেন ৫ হাজার ১৪৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া (ফুটবল) পেয়েছেন ৯৪৭ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টির জগদীশ বড়ুয়া (আনারস) পেয়েছেন ৬০২ ভোট এবং আমজনতা দলের নুরুল আবছার (প্রজাপতি) পেয়েছেন ৩৬৭ ভোট।
কক্সবাজার-৪ : হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শাহজাহান চৌধুরী
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৮ জন। পোস্টাল ব্যালটসহ মোট ১১৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নূর আহমদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল হক (হাতপাখা) পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৮ ভোট এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর সাইফুদ্দিন খালেদ (সিংহ) পেয়েছেন ৩৭৯ ভোট।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এদিন সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার পর ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ভোটাররা নিজেদের মতামত দিয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোট শেষ হওয়ার পর শুরু হয় গণনা।
প্রসঙ্গত, শেরপুর-৩ (ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী) আসনের নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় এবার ২৯৯ আসনে মোট ২ হাজার ২৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫, স্বতন্ত্র ২৭৪ ও নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৩ জন।
আবার নারী প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় ৬৩ ও স্বতন্ত্র ছিলেন ২০ জন। বিপরীতে এবার মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং হিজড়া ভোটার ছিল ১ হাজার ২৩২ জন। ১২৪টি দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল।


