× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রকল্প বাগিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

অভিযুক্ত মোহাম্মদ এরশাদ রানা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

অভিযুক্ত মোহাম্মদ এরশাদ রানা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে সাংবাদিক পরিচয়ে ঘুরে বেড়িয়ে নিজ বাড়ির সামনের রাস্তা সংস্কারের প্রকল্প বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ এরশাদ রানা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-প্রচার সম্পাদক এবং খেঁয়াইশ গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে। পাশাপাশি তিনি নালঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ২ লাখ টাকার একটি সড়ক সংস্কার প্রকল্প নিজের প্রভাব খাটিয়ে বাগিয়ে নিয়ে সেখানে সামান্য কাজ করেই পুরো টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন এরশাদ রানা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি কম দেখে বাকি বিল পরিশোধে অস্বীকৃতি জানালে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ও স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের আশীর্বাদে নালঘর উচ্চ বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর চাকরি পান এরশাদ রানা। তবে দিনে তিনি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে উপজেলা পরিষদ এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। প্রতিদিন বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বসে থেকে সখ্যতা গড়ে তোলেন। বিশেষ করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বেশি ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সখ্যতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি কয়েকটি ছোট প্রকল্পের কাজও বাগিয়ে নেন। স্থানীয়দের দাবি, অতি দরিদ্র পরিবারে জন্ম হলেও আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে চাকরি ও বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও পরে আবার সাংবাদিক পরিচয়ে উপজেলা এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন এরশাদ রানা। সম্প্রতি বিদায়ী ইউএনও জামাল হোসেনের সময়ে নিজের বাড়ির সামনে সড়ক সংস্কারের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে নেন তিনি। শ্রীপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শাহ আলমকে প্রকল্প সভাপতি করা হয়।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে প্রথম কিস্তির ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে অবশিষ্ট ১ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে প্রকল্পের মাত্র ৯ থেকে ১০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়নের প্রমাণ পান এবং বাকি বিল দিতে অস্বীকৃতি জানান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ১১১ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়ক সংস্কারের কথা উল্লেখ থাকলেও সেখানে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ ফুট জায়গায় আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ ট্রাক্টর মাটি ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি মো. শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অভিযোগের বিষয়ে এরশাদ রানা দাবি করেন, ‘যেখানে মাটি ফেলা হয়েছে বর্ষাকালে তা টিকবে না। তাই ওই স্থানে গার্ড নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কাছে প্রকল্পের বাকি টাকা চাওয়া হয়েছে।’

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রকল্পের প্রায় ১০ শতাংশ কাজ করা হয়েছে। এর বেশি অগ্রগতি না থাকায় বাকি টাকা দেওয়া হয়নি।’ এ বিষয়ে তিনি এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

Link copied!