কুমিল্লার মুরাদনগরে দীর্ঘদিনের পূর্ব শত্রুতার জেরে আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে মাওলা সরকার (৪৫) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন পূর্ব ধইর পশ্চিম ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাওলা সরকার (৪৫) ওই গ্রামের মৃত হাশেম সরকারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেম্বারি নির্বাচন ও সেচ প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিহতের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের নোয়াব সরকারের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলমের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে পূর্বেও একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে এবং এসব ঘটনায় মামলা চলমান।
নিহতের চাচাতো ভাই ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুর রহিম সরকার জানান, মঙ্গলবার রাতে মাওলা সরকারসহ কয়েকজন মহেশপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঝোপের আড়ালে ওঁৎ পেতে থাকা ৮-১০ জনের একটি দল অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মাওলাকে লক্ষ্য করে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত মাওলাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমরা বাজার থেকে ফেরার পথে তালগাছের পাশের ঝোপ থেকে কয়েকজন বের হয়ে পেছন থেকে মাওলাকে কোপাতে শুরু করে। আমরা চিৎকার করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।’
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, খোরশেদ আলম এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি আবদুল কাদের জানান, নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা গ্রহণ করা হবে।


