ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
মিরাজুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা কেরানীগঞ্জ উপজেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইফা-মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের মডেল কেয়ারটেকার মিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, জালিয়াতি ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। ৯ বছর একই এলাকায় খুঁটি গেড়ে বসা থাকা এই কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি ইফার মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল কেয়ারটেকার মিরাজুল ইসলাম ইফার এ পবিত্র প্রকল্পের আড়ালে দুর্নীতির পাহাড় গড়েছে।

মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনের একজন প্রকল্প কর্মচারী হয়েও গত ৯ বছরে সে একাধিক স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছে কি করে? ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০১৭ সাল থেকে একই কর্মস্হলে কর্মরত থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, মিরাজুল ইসলাম নিজ হাতে জাল সনদ তৈরি করে অযোগ্য ব্যক্তিদের শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। বিশেষ করে ২০১৮ ও ২০২১ সালে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরি টিকিয়ে রাখার শর্তে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে সে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করে। 

এ ছাড়াও কেরানীগঞ্জের প্রায় ২০টি কেন্দ্রের শিক্ষকদের সম্মানী থেকে প্রতি মাসে ‘উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ১০০০টাকা করে অবৈধভাবে কেটে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কোন শিক্ষক প্রতিবাদ করলে তাকে চাকরিচ্যুত করার ভয়ও দেখিয়ে থাকেন এ মডেল কেয়ারটেকার লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জালিয়াতির অন্ত শেষ নেই! একাধিক নারী শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের গুরুতর অভিযোগও আছে। এক নারী শিক্ষিকার সাথে তার সম্পর্কের জেরে গ্রাম্য সালিশ-বিচারও হয়েছে একাধিকবার। এমনকি উপজেলার পরিসংখ্যানের কাজের অজুহাতে অফিস কক্ষে বহিরাগতদের রাত্রিযাপনের সুযোগ দিয়েও হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিনাত ফৌজিয়া তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও ক্ষমতার দাপটে তার কোনো জবাব দেয়নি মিরাজ।

আবেদনকারী ও সচেতন শিক্ষকদের পক্ষে স্থানীয়রা বলে, ধর্মীয় একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে মিরাজুল ইসলাম যে অপকর্ম চালাচ্ছে, তাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। আমরা অবিলম্বে ইফার কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও দ্রুত বদলির অনুরোধ জানাচ্ছি।

ইতোমধ্যেই অভিযোগের অনুলিপি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির প্রতিকারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এলাকায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফাউন্ডেশনের ভাবমূর্তি রক্ষায়, স্বচ্ছতা ও শ্ঙ্খলা বজায় রাখতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা উচিৎ ইফার কর্তৃপক্ষের।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মডেল কেয়ারটেকার মিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি মুঠোফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়েও কোনো উত্তর মেলেনি।