দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পৌরসভাসহ সাত ইউনিয়নের কৃষি বিভাগের ব্লক সুপারভাইজর (বিএস) বর্তমানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (এসএএও) জন্য নির্মিত বিএ কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘদিন থেকে পরিত্যক্ত থেকে এখন মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তান শাসনামলে ১৯৬৫ সালের দিকে গ্রাম পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে বীজ সরবরাহের লক্ষ্যে পৌর এলাকাসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে ৫নং খয়েরবাড়ী ইউনিয়ন বাদে অন্য ৭টিতে বীজাগার নির্মাণ করা হয়। বীজাগারগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল জনশূন্য নির্জন স্থানে। সে সময় তৎকালীন কৃষি বিভাগের ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত ব্লক সুপারভাইজররা (বিএস) এসব বীজাগার থেকে বিভিন্ন ফসলের বীজ সরবরাহ করতেন। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর সরকার কৃষিকে কৃষকের দোড়গোড়ায় নিয়ে যাবার লক্ষ্যে ১৯৮০ সালের দিকে বীজাগারগুলোকে সংস্কার করে দুজন বিএসকে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকার উপযোগী ভবন নির্মাণ করেন। ভবানগুলো নির্মাণের ৫০ টাকা ভাড়ায় বরাদ্দ দেওয়া হয় বিএসদেরকে।
এরপর বেশ কয়েকজন বিএস তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে কোয়ার্টারগুলোতে বসবাস শুরু করতে গেলে চোর ও ডাকাতের খপ্পড়ে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে কোয়ার্টার ছেড়ে নিরাপদ স্থানে বসবাস করে তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। সে সময় থেকে শুধু পৌরসভার বিএস কোয়ার্টার ছাড়া অন্য ৬টির একটিতেও কেউ বসবাস করার সাহস পাননি। ফলে দীর্ঘদিন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় কোয়ার্টারগুলোর দরজা, জানালাসহ ইটসহ যাবতীয় উপকরণ খুলে নিয়ে গেছে দুষ্কৃতকারীরা। ফলে ভগ্নদশায় পড়ে রয়েছে কোয়ার্টারগুলো। যার কারণে পরিত্যক্ত কোয়ার্টারগুলো এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কোয়ার্টারগুলো যেসব স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে, পরিত্যক্ত থাকায় সেগুলো এখন কোনোভাবেই বসবাসের উপযোগী নয়। তা ছাড়া আবারও সংস্কার করে সেখানে বসবাস করতে গেলে চোর ও ডাকাতের কবলে পড়ে সবকিছু হারাতে হবে। তা ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে থাকার তেমন ব্যবস্থা না থাকায় প্রত্যেককেই উপজেলা সদরে ভাড়া বাড়িতে বসবাসসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
পৌর এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি যে বিএস কোয়ার্টারে থাকেন সেটিও বসবাসের অনুপযোগী হিসেবে ঘোষিত পরিত্যক্ত ভবন। ইতোমধ্যে কোয়ার্টারের প্লাস্টার খসে পড়েছে, খুলে পড়ছে ইটসহ খোয়া। এরপরও কাজের তাগিদে বসবাস করতে হচ্ছে।
উপজেলার ৭নং শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর এলাকার বাসিন্দা বিপুল চৌধুরী বলেন, রাজারামপুরের বিএস কোয়ার্টারটি দরজা, জানালা কাঠ ও রড খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ছাদ ও দেওয়ালের পলেস্তরা খসে পড়েছে, বের হয়ে এসেছে ছাদের রড। কোয়ার্টারের ভেতরে জমেছে ঝোপঝারসহ জঙ্গল। প্রাচীর ভেঙে প্রাচীর চত্বরে গজিয়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। এখানে কোনোভাবেই মানুষের বসবাস করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া জায়গাটি একেবারেই নির্জন ও জনশূন্য।
উপজেলার এলুয়ারি ইউনিয়নের খাজাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, আগে খাজাপুর বিএস কোয়ার্টার ছিল। সেটি এখন ভগ্নদশায় পরিত্যক্ত। কেউ থাকেন না, আর থাকার উপযোগীও নয়। তবে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ইউনিয়নে বসবাস করলে কৃষকরা আরও বেশি করে কৃষি-সংক্রান্ত সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা পেতেন।
ফুলবাড়ী থানার ওসি মো. আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, পরিত্যক্ত বিএস কোয়ার্টারগুলোতে যাতে কোনো প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফ আব্দুলাহ্ মোস্তাকিন বলেন, বিএস কোয়ার্টারগুলো কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
-20260328105724.webp)

