ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে অসহায়ত্বে দিন কাটছে জেলেকা বেগমের

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
জেলেকা বেগম ও তার প্রতিবন্ধী সন্তান। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে ৬৫ বছর বয়সি বিধবা জেলেকা বেগমের দারিদ্র্য ও অসহায়ত্ব যেন কবি জসীমউদ্দীনের আসমানি চরিত্রকেও হার মানায়। জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা ঘরে অসুস্থ প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে তার দিন কাটে খেয়ে না খেয়ে। অর্থাভাবে তিনি তার প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালি ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামে জেলেকা বেগমের ছয় সদস্যের পরিবার বসবাস করে।

একসময় এই পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন তার স্বামী। প্রায় পাঁচ বছর আগে চিকিৎসার অভাবে তার স্বামী মারা গেলে পরিবারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে বড় সন্তানের কাঁধে। তিনি ভ্যান চালিয়ে সামান্য উপার্জন করলেও অনাহারে-অর্ধাহারে কাটছে তাদের জীবন। পুরো পরিবারটি বর্তমানে চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে।

এত অভাব-অনটনের মাঝেও জেলেকা বেগম আঁকড়ে ধরে আছেন তার প্রতিবন্ধী সন্তান ফারুককে। বৃদ্ধ বয়সেও প্রতিদিন ছেলেকে খাওয়ানো, গোসল করানোসহ যাবতীয় দেখভাল তিনি নিজেই করেন। এদিকে, প্রতিবন্ধী ফারুক দিন দিন শারীরিকভাবে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তার এখন উন্নত চিকিৎসা অত্যন্ত প্রয়োজন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সামান্য আর্থিক সহযোগিতা পেলে তারা ফারুকের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারবেন।

জেলেকা বেগম বলেন, তিনি মারা যাওয়ার পর তার এই প্রতিবন্ধী সন্তানকে কে দেখবে, কে খাওয়াবে—এই চিন্তাই তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন সমাজের সকলের সহযোগিতায় একটু স্বচ্ছলভাবে বাঁচতে চান তিনি। এ জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী শামীম আহমেদ বলেন, ফারুক বর্তমানে মাসিক ৮৫০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। ভাতার পাশাপাশি চিকিৎসা ভাতার বিষয়েও তাকে সহযোগিতা করা হবে।

অসহায় এই পরিবারটিকে সাহায্য পাঠানোর জন্য মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর: ০১৭৫৯৩৬৫৭৬০ (পার্সোনাল বিকাশ—ফারুকের মা জেলেকা বেগম)।