ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) আসনে দাখিল করা সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এ আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও কোনো মনোনয়নই প্রাথমিকভাবে বৈধ বলে বিবেচিত হয়নি।
তবে বিকেল ৪টার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য সংশোধনের মাধ্যমে কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মোল্লা।
যাচাই-বাছাইয়ে ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত এবং ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
স্থগিত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, ফরিদপুর-১ আসনের চারবারের সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী শাহ মো. আবু জাফর; সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী, ঢাকা জেলা শুরা সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লা।
বাতিল হওয়া সাত জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী। যাদের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে, তারা রোববার বিকেল ৪টার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য সংশোধন করে মনোনয়নপত্র বৈধ করার সুযোগ পাবেন।
জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী শাহ মো. আবু জাফরের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে দুটি মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ না থাকার কারণে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয় তিনটি মামলার তথ্য জমা না দেওয়ায়। আয় বিবরণীতে অসংগতির কারণে জামায়াত প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লার মনোনয়নপত্রও স্থগিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মৃন্ময় কান্তি দাস, জাতীয় পার্টির সুলতান আহমেদ খান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মুহাম্মদ খালেদ বিন নাছের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ শরাফাত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল বাসার খানের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে।
ভোটার তালিকার একাংশের তথ্য সঠিক না থাকায় বাতিল করা হয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু, মো. হাসিবুর রহমান, আরিফুর রহমান দোলন, মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ, লায়লা আরজুমান বানু এবং মো. গোলাম কবীর মিয়ার মনোনয়নপত্র।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, ফরিদপুর-১ আসনে দাখিল করা ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ছোটখাটো ত্রুটির কারণে ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারা আজ বিকেল ৪টার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সংশোধনী জমা দিয়ে মনোনয়ন ফিরে পেতে পারেন। আর যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, তারা নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন