ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কুয়েতে বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বাংলাদেশি যুবক জামাল মাতুব্বর কুয়েতের আহমেদী জেলার অপেরা ফার্ম হাউসে চাকরি করতেন। এই ফার্ম হাউসেই গত ১ জানুয়ারি রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় তার লাশ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জামাল মাতুব্বর সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রাহুতপাড়া গ্রামের মৃত হামেদ মাতুব্বরের ছেলে, এবং দুই কন্যার জনক।

পরিবার জানায়, সুখের জন্য তিনি ৮ বছর আগে কুয়েতে পাড়ি জমান। তিন বছর আগে ছুটিতে দেশে আসেন। ২৬ সালের জানুয়ারি মাসে আবার দেশে আসার কথা ছিল, কিন্তু বাড়ি ফিরলেন লাশ হয়ে।

জামালের স্ত্রী কাকোলি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। টাকার জন্যই তাকে হত্যা করে আগুন ধরানো হয়েছে। আমাদের ধারণা, যারা হত্যা করেছে তারা আমার স্বামীর কাছের মানুষ। আমি কুয়েতে বাংলাদেশের দূতাবাসের কাছে সঠিক বিচার চাই, যেন সুষ্ঠু তদন্ত করে আমাদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হয়।’

পাশ্চাত্য নগরকান্দা উপজেলার তালেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ও কুয়েত প্রবাসী মুন্নু ফকির বলেন, ‘আমি ডিসেম্বর মাসে ছুটিতে দেশে এসেছি। জামাল যেখানে থাকত সেখান থেকে আমি ১৫০ কিলোমিটার দূরে থাকি। জামাল আর কিছুদিন পর ছুটিতে দেশে আসার কথা ছিল। ১ জানুয়ারি ফোনে খবর পেলাম, জামাল আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। কুয়েতের ফায়ার সার্ভিস লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে কুয়েত পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তের কাজ শেষে কুয়েতে বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে মঙ্গলবার জামালের লাশ দেশে আসে। এরপর পরিবারের লোকজন লাশ বাড়িতে নিয়ে এসে দাফন সম্পন্ন করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এলাকাবাসী কুয়েতে বাংলাদেশের দূতাবাসের কাছে জামালের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার আশা করছি।’