বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ‘সোনালি আঁশ’ পাটকে নতুনভাবে কাজে লাগিয়ে সালথায় সৃষ্টি হচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রঘুয়ারকান্দি গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল পাটজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এলাকায় গড়ে তুলেছেন এক ব্যতিক্রমধর্মী পরিবেশবান্ধব শিল্প উদ্যোগ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সরেজমিন দেখা যায়, নিজের বাড়িতে স্থাপন করা দুটি আধুনিক মেশিনের মাধ্যমে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের পাটের ব্যাগ, শপিংব্যাগ, অফিস ব্যাগ ও লোগোসংবলিত আকর্ষণীয় প্যাকেজিং ব্যাগ উৎপাদন করছেন তিনি। বর্তমানে চালের দোকান, মুদি ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন সাইজের লোগোসংবলিত ব্যাগ তৈরি করে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
উৎপাদিত পণ্যগুলো সালথা বাজারে তার নিজস্ব দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলাতেও তার পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে।
উদ্যোক্তা সোহেল বলেন, প্লাস্টিকের ক্ষতিকর ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরি করাই আমার মূল লক্ষ্য। শুরুটা ছোট হলেও স্বপ্ন অনেক বড়। একদিন সালথার পাটপণ্য দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও যাবে।
এই কারখানায় বর্তমানে কয়েকজন স্থানীয় যুবক কাজ করছেন, যা এলাকায় বেকারত্ব কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে এখানে অন্তত ২০ থেকে ৩০ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সালথা উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, বর্তমান সময়ে পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো সরকারের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি। তরুণ উদ্যোক্তা সোহেলের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পাটজাত পণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি এর বাজার সম্ভাবনাও অনেক বড়। পাট উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।
সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, পাট আমাদের দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় ফসল। কাঁচামাল হিসেবে পাটের পাশাপাশি পাটজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে গুরুত্ব বাড়াতে পারলে কৃষক ও উদ্যোক্তা উভয়ই লাভবান হবেন। সালথায় তরুণ উদ্যোক্তার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।
পরিবেশ রক্ষা, স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করা এবং কর্মসংস্থান—এই তিনটি লক্ষ্য একসঙ্গে পূরণ করছে সালথার এই পাটশিল্প উদ্যোগ। এটি গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।


