ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের উদ্যোগে জেনারেশন জেড (জেন-জি) কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলার পশ্চিম হাসামদিয়া ওয়াটার ওয়ার্ল্ড পার্কে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
বেলা সাড়ে ১১টায় সম্মিলিত জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেন ফুড অ্যান্ড হেলথের পরিচালক সাংবাদিক ওবায়দুল রহমান। পরে আগত অতিথিদের উদ্দেশে উন্মুক্ত প্রশ্নের আহ্বান জানানো হয়। এ সময় তরুণরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে অতিথিদের কাছে প্রশ্ন করেন। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং সদরপুরের তরুণ উদ্ভাবক মারুফ মোল্লার তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, তরুণদের নিয়ে এমন একটি অনুষ্ঠান আজ আমাদের পার্কে করতে হচ্ছে। এই এলাকায় এমন কোনো অডিটোরিয়াম নেই যেখানে এই আয়োজন করা যেত। অথচ গত ১৭ বছর ধরে বলা হয়েছে, এই এলাকা নাকি ইউরোপ-আমেরিকা হয়ে গেছে। কিন্তু নির্বাচন করতে এসে আমি বুঝেছি, পদ্মা সেতু ও হাইওয়ে ছাড়া এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজই হয়নি। এর প্রমাণ চাইলে গ্রামেগঞ্জে ঘুরে দেখা যেতে পারে।
তরুণদের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই তরুণরাই পৃথিবী বদলে দিতে পারে। তবে এমন নয় যে সব কিছু তরুণরাই করবে। তরুণদের শক্তি আর প্রবীণদের অভিজ্ঞতা মিললেই দেশকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নেওয়া সম্ভব।
শহিদুল ইসলাম বাবুলকে কেন তরুণরা ভোট দেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে আপনারা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন, সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আমি গত ১৭ বছর ধরে লড়াই করে যাচ্ছি। আমি সব সময় লুণ্ঠন, গুম ও খুনের রাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছি। আপনারা আগামীর যে স্বপ্ন দেখছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা তরুণদের পাশে থেকেই কাজ করবো। তরুণদের শিক্ষা, জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ জনগোষ্ঠীতে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।
বিশিষ্ট চিন্তক ও গবেষক ফাহাম আব্দুস সালাম বলেন, আমি আজ এখানে কেন আসতে পেরেছি—এর পেছনে কারণ ৫ আগস্ট। দেশে পাঁচ আগস্টের ঘটনা না ঘটলে হয়তো আজ আমি এখানে আসতে পারতাম না। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, জুলাইয়ে ছাত্রদলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিহত হলেও আমরা তাদের যথাযথ গুরুত্ব দিই না। আমি নিয়মিত বাবুল ভাইয়ের টকশো দেখি এবং আমি উনার একজন ভক্ত। তিনি বলেন, কাকে নির্বাচিত করব—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আগে দেখতে হবে প্রার্থীর ট্র্যাক রেকর্ড কেমন। তার রাজনৈতিক দলও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। যাকে নির্বাচিত করা হবে, তার দল ক্ষমতায় যাবে কি-না এবং তিনি সংসদে যেতে পারবেন কি-না—সেসব বিষয় বিবেচনা করেই ভোট দিতে হবে।
ফাহাম আব্দুস সালাম আরও বলেন, আমি বাবুল ভাইকে যেভাবে চিনি, তার ক্ষমতায় যাওয়া উচিত। পাঁচ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ক্ষমতার উৎস হবে জনগণ। এই লক্ষ্যেই আমরা গত ১২-১৩ বছর ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বাবুল ভাই ক্ষমতায় গেলে আপনারাই ক্ষমতায় যাবেন।
রাজনীতি বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো জেনারেশনই আগের জেনারেশনের কথা শোনে না। কারণ নতুন জেনারেশন তৈরি হয় আগের জেনারেশনকে ভাঙার মধ্য দিয়েই। জেন-জি নিয়ে আমার একটি ভুল ধারণা ছিল, তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সেই ভুল ভেঙে গেছে। তোমরা এমন একটি বড় বিপ্লব ঘটিয়েছ, যা করার সাহস আমাদের ছিল না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জামায়াত সমাজে কথা বলার মাত্রা কমিয়ে দিয়েছে। এখন অনেকে এই শব্দটির ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চায় না। এটি জামায়াতের একটি বড় পাপ। তিনি আরও বলেন, বাবুল ভাই ও বিএনপির কাউকে এবার ভোট চাইতে হবে না, তাদের এখন ২০৩১ সালের নির্বাচন নিয়ে ভাবা উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, আমরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করতে আসিনি। আমরা রাজনীতি করে দায়িত্বশীল পর্যায়ে যেতে চেয়েছি। ক্ষমতার প্রকৃত মালিক জনগণ। রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতাকে বাংলাদেশের শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। তারেক রহমান সেগুলো ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। এখানে যে দায়িত্ব রয়েছে, তা শহিদুল ইসলাম বাবুল একা পালন করতে পারবেন না। আপনাদের সবাইকে নিয়ে, এই জেন-জিকে সঙ্গে নিয়েই তিনি সেই দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি সবার কাছে শহিদুল ইসলাম বাবুলের জন্য ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।
ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, এখানে অনেক প্রতিভাবান তরুণ রয়েছেন, যারা প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে আছেন। শহিদুল ইসলাম বাবুল এসব তরুণদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। বিগত ১৭ বছর ধরে তিনি এ ধরনের প্রতিভাবান তরুণদের সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন। জান্নাতের টিকিট বিক্রি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জান্নাত ও জাহান্নামের ফয়সালার মালিক একমাত্র আল্লাহ। আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন পরীক্ষার জন্য। সুতরাং যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা ভণ্ড।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষকদলের সদস্য সচিব শফিকুর রহমান মিঠু ও ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা সজল। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডাকসুর সাবেক এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ। এ সময় ফরিদপুর-৪ আসনের সহস্রাধিক তরুণ-তরুণী উপস্থিত ছিলেন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন