ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

খালেদা জিয়া নেই, স্মৃতি হয়ে রইল নিমগাছ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ০৮:৪০ এএম
খালেদা জিয়ার হাতে লাগানো নিমগাছ। ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই। তবে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে তার পৈতৃক বাড়ির দরজায় রোপণ করা একটি নিমগাছ আজ স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

২০০৮ সালে খালেদা জিয়া নিজ পৈতৃক নিবাস ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর এলাকার মজুমদার বাড়িতে এলে দক্ষিণ শ্রীপুর দিঘির পাড়ে বাড়ির প্রবেশদ্বারে নিজ হাতে একটি নিমগাছ রোপণ করেন। সময়ের সঙ্গে পরিচর্যায় গাছটি বড় হয়ে উঠলে এর গোড়ায় টাইলস দিয়ে খালেদা জিয়ার নাম খোদাই করে লেখা হয়। গাছটি এখন আর শুধু একটি বৃক্ষ নয়- তা হয়ে উঠেছে প্রয়াত এই নেত্রীর স্মৃতির নীরব সাক্ষী।

পৈতৃক এই বাড়ির প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে আছে খালেদা জিয়ার স্মৃতি। ঘরের ভেতরে ব্যবহৃত বসার চেয়ার, বিশ্রামের ছোট খাট, খাবারের টেবিল- সবকিছুতেই যেন লেগে আছে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর স্পর্শ।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে খালেদা জিয়া ফুলগাজীতে এসে তার দাদা সালামত আলী মজুমদারের কবর জিয়ারত করেন এবং এখান থেকেই নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছিলেন। তার মৃত্যুর খবরে আজ সেই বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর নীরবতা। শোকাবহ পরিবেশে নির্বাক পরিবারের সদস্যরা।

বেগম জিয়ার চাচাতো ভাই শামীম হোসেন মজুমদার বলেন, ‘বাড়িতে এলে তিনি যেমন বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, তেমনি ছোটদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল। তাকে হারিয়ে দেশ ও জাতি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই ক্ষতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়।’

নিজ পৈতৃক নিবাস এলাকাতেই জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়া মাদ্রাসা, মসজিদ, স্কুল ও কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেন।

খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম খালেদা খানম পুতুল।

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তার দাদা সালামত আলী, নানা জলপাইগুড়ির তোয়াবুর রহমান। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। দিনাজপুর শহরের মুদিপাড়ায় তার জন্ম হলেও আদি পৈতৃক নিবাস ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ি।

পাঁচ বছর বয়সে খালেদা জিয়া দিনাজপুরের মিশন স্কুলে ভর্তি হন। পরে দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। একই বছর তিনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর থেকেই তিনি খালেদা জিয়া বা বেগম খালেদা জিয়া নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজে অধ্যয়ন করেন।

১৯৬০ সালের আগস্টে বিয়ের সময় জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন ছিলেন এবং ডিএফআইয়ের কর্মকর্তা হিসেবে দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন।

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। তার পৈতৃক বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়িতে অবস্থিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল।