ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নে পূর্বের বিরোধের জেরে আলমগীর হোসেন সোহাগ (৫০) নামে এক টমটম চালককে কেঁচি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ইউনিয়নের রাজনগর এলাকায় নাপিতবাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকারী নুরুজ্জামান এরশাদকে ছাগলনাইয়ার পাঠাননগর এলাকা থেকে আটক করে।
নিহত সোহাগ ওই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত রুহুল আমিনের ছেলে। আর হত্যাকারী এরশাদ একই এলাকার মহসিন মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সোহাগ ও এরশাদের মধ্যে পূর্বের বিরোধ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। স্থানীয়রা তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে এরশাদ হঠাৎ সোহাগের পেছনে গিয়ে তার বুকে কেঁচি ঢুকিয়ে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সোহাগকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এরশাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগে সে জেল খেটে বেরিয়েছে। তবে শুধু এরশাদ নয়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও প্রভাবশালী চক্রের হাত থাকতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে সোহাগের ওপর হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীরা তার কাছে থাকা ৮৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিল। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে না পারায় সোহাগকে টার্গেট করেছিল ওই চক্র।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহজনা সিরাজি জানান, ‘মাদক ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এরশাদ ফেনী সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে।’
নিহত সোহাগের স্ত্রী শারমিন আক্তার জানান, ‘তার স্বামী টমটম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মাসখানেক আগে সন্ত্রাসীরা স্বামীকে মারধর করে এবং ঘর করার জন্য রাখা ৮৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।’
তিনি দাবি করেন, ‘মৃত্যুর আগে তার স্বামী একটি চিরকুটে কয়েকজনের নাম লিখে যান। তবে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তাদের নাম প্রকাশ করতে তিনি ভয় পাচ্ছেন। প্রশাসনের কাছে তিনি স্বামীর হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।’
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সাইফুল ইসলাম জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং অভিযান চালিয়ে এরশাদকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কেঁচি উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘নিহতের স্ত্রী মামলা দায়ের করেছেন। এরশাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।’