ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নানা সংকটে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মো. হাবিবুল ইসলাম রিয়াদ, সোনাগাজী (ফেনী)
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ১০:৫৩ এএম
সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ফেনীর সোনাগাজী উপকূলীয় ও জনবহুল এলাকা। এতে প্রায় ২ লাখ ৯১ হাজার লোক বসবাস করে। এ উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। নেই চিকিৎসক, কর্মচারী, নেই চিকিৎসা সরঞ্জাম, নেই ওষুধও। প্রাপ্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ উপজেলার বাসিন্দারা। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। রোগীদের চাপ সামলাতে গিয়ে রীতিমতো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্রমতে, চিকিৎসকসহ জনবল সংকট নিরসনে বারবার ঊর্ধ্বতনদের চিঠি দিয়েও ব্যর্থ হচ্ছেন। উপকূলীয় উপজেলা হিসেবে স্বাস্থ্য সম্পর্কেও তেমন একটা সচেতন নয় এই জনপদের মানুষ। প্রতিদিন গড়ে আন্তঃবিভাগে ৭০-৮০ জন এবং বহির্বিভাগে ৪ থেকে ৫শ জন রোগী এই হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে ২১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ৮ জন। মেডিকেল অফিসার ৭ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ৩ জন। কনসালটেন্ট ১১ জনের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ৩ জন। মিড ওয়াইফ ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন ১ জন, নার্স ২৫ জনের মধ্যে রয়েছেন ১৯ জন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ৬ জনের মধ্যে রয়েছেন ১ একজন। আয়া ৩টি পদে ৩টিই শূন্য রয়েছে। ওয়ার্ড বয় ৬ জনের মধ্যে ৬টিই শূন্য। নিরাপত্তাপ্রহরী ৩ জনের মধ্যে তিনজনই শূন্য। অফিস সহায়ক ৪ জনের মধ্যে ৪টিই শূন্য। এ নিয়ে চলছে হাসপাতাল।

২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে চালু হলেও এখন পর্যন্ত ৫০ শয্যার জনবল বা চিকিৎসা সরঞ্জাম মিলেনি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি এবং একমাত্র জেনারেটর মেশিন দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের সময় হাসপাতালজুড়ে সৃষ্টি হয় ভূতুড়ে পরিবেশ। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ের বরাদ্দে ছয়তলা ফাউন্ডেশনের তিনতলা ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

২০২২ সালের ৬ জুন কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১১ মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার শর্ত থাকলেও দুইবার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ৩১ মে শেষ মেয়াদেও কাজ শেষ না করে প্রতিষ্ঠানটি পালিয়ে যায়। কলাম ভিম ও ছাদের পরে আর কোনো কাজই হয় নাই। গত ১৫ জুন, ২০২৪ থেকে নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ। এতে করে নির্মাণাধীন মূল ভবনের কাজও থমকে আছে। প্রায় পরিবারের লোক ডায়াবেটিস ও প্রেসারে ভুগছেন। হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবত ডায়াবেটিস ও প্রেসারের ওষুধ নাই বললেই চলে।

উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের আজিজ আহম্মদ (৬৩) নামের এক বৃদ্ধ জানান, প্রেসারের ওষুধের জন্য সে আমিরাবাদ থেকে এসেছি। কিন্তু ওষুধ তো পাইনি। কিনার সামর্থ্যও নাই। কপালে যা আছে তা হবে।

নুর জাহান (৫৮) নামের চর গনেশ এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ডায়াবেটিস শরীর নষ্ট করে ফেলতেছে আজকেসহ ৩ দিন এসেও ওষুধ পাইলাম না। এসব কারণে রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি থেকেও বাহির থেকে বিভিন্ন চেম্বার বা ক্লিনিকের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নতুন ভবন নির্মাণকাজ বন্ধের বিষয়টি ঊর্ধ্বতনকে একাধিকবার চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছি। ওষুধের বিষয়ে এনসিডিসিকে অবগত করেছি। তবে ইডিসিএল থেকে কিছু ওষুধ আসার কথা রয়েছে। আমরা যে জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি আছে এগুলো দিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। নতুন ভবন ও স্বাস্থ্যসেবার সরঞ্জামাদি পেলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।