ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

তিন দিনেও ফেরেনি বিদ্যুৎ, অন্ধকারে ১০ গ্রাম

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত

ঝড়ের তাণ্ডবে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎব্যবস্থা। খুঁটি উপড়ে যাওয়া, তার ছিঁড়ে পড়া ও ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামে টানা তিন দিনেও স্বাভাবিক হয়নি বিদ্যুৎ সরবরাহ। এতে অন্ধকারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার তারাপুর, দহবন্দ, শান্তিরাম, সোনারায়, বামনডাঙ্গা, বেলকা ইউনিয়ন এবং সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ওপর দিয়ে শক্তিশালী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ের তাণ্ডবে গাছ উপড়ে পড়ে এবং ডাল ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। এতে অন্তত ২০টি গ্রাম ও মহল্লার বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে উপজেলার ২২টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং ১০টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২০০ স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২০০টি বিদ্যুৎ মিটার এবং অর্ধশতাধিক খুঁটি হেলে পড়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ জন কর্মী দিনরাত কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১১টি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বেলকা ইউনিয়নের বাসিন্দা হায়দার আলী বলেন, ‘তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইল, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, ফ্যান, রাইস কুকার—সবকিছু বন্ধ হয়ে আছে। শিশুদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। ঈদের আগে এমন পরিস্থিতিতে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’

দক্ষিণ ধুমাইটারি গ্রামের অটোবাইক চালক ফরমান আলী বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় অটোর ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছি না। ফলে তিন দিন ধরে গাড়ি চালাতে পারছি না। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ঈদের আগে এমন অবস্থা আমাদের বড় বিপদে ফেলেছে।’

কম্পিউটার ব্যবসায়ী সালাম মিয়া বলেন, ‘বিদ্যুতের ওপরই আমাদের ব্যবসা নির্ভরশীল। তিন দিন ধরে দোকান প্রায় বন্ধ। বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও নেই। দ্রুত লাইন চালু না হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. আব্দুল বারী বলেন, ‘ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় দ্রুত সব এলাকায় সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ১৮ মে থেকে ৫০ জন কর্মী দিনরাত কাজ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগে সংযোগ চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সব গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদ সামনে রেখে যখন ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম জমে ওঠার কথা, তখন বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পুরো জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকায় রাত নামলেই বাড়ছে ভোগান্তি। অনেকেই মোবাইল চার্জ দিতে দূরের বাজারে ছুটছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করলেও এতে খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।